advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিপ্লব ঘটবে মৎস্য সম্পদে

তেঁতুলিয়ার ইলিশ যাবে পদ্মা সেতু দিয়ে

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা ও কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০২২ ১২:১৬ এএম
advertisement

দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক মাছের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এ বন্দর থেকে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু কয়েক দশক ধরে ফেরিঘাটে যানজটের কারণে যথাসময়ে গন্তাব্যে পৌঁছতে পারেন না ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় ফেরিঘাটে দিন পার হয়ে যায়। এতে মাছের গুণগত মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভালো দাম পাওয়া যায় না। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মাছের ব্যবসায় আসবে আমূল পরিবর্তন। যার সুফল পাবেন ব্যবসায়ী, জেলে ও শ্রমিকরা।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা থেকে নদীপথে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলায় তেঁতুলিয়া নদীর ইলিশ পাঠাতে গেলে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতেন জেলেরা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়ক পথে নির্বিঘ্নে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইলিশ পৌঁছে যাবে গন্তব্যে। এতে করে জেলে ও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

advertisement 3

পাথরঘাটা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। এসব সমস্যা আর থাকবে না। আমূল পরিবর্তন ঘটবে এই বন্দরে।

advertisement 4

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের এই বৃহতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছের ব্যবসায় সুদিন ফিরে আসবে। রাজধানীবাসীরাও সমুদ্রের তাজা মাছ খেতে পারবেন।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট এম লুৎফর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হয়েছে। এখান থেকে কোনো ফেরি পার হতে হবে না। কম সময়েই দেশের যে কোনো জায়গায় পৌঁছা সম্ভব হবে। তখন বন্দরে ট্রলার আসবে বেশি, ফলে বাড়বে এ অবতরণ কেন্দ্রের রাজস্ব আদায়। এ ছাড়া উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার জেলে ও শ্রমিক রয়েছে, তাদের সবার ভাগ্যের বড় একটি পরিবর্তন আনতে পারে এই সেতু।

বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী কালাইয়া বন্দরের মৎস্য আড়তদার সমিতির একাধিক ব্যবসায়ী জানান, জেলেরা রাতভর মাছ ধরে সকালে নিয়ে আসেন আড়তে। সেই মাছ ফ্রিজিং করে লঞ্চের জন্য বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর পর লঞ্চে লোড করে রাতসহ প্রায় ১৭ ঘণ্টা লাগে গন্তব্যে পৌঁছতে লাগে। দীর্ঘ সময়ে মাছ বরফে থাকার কারণে মাছের গুণগন মান নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর। দামও তুলনামূলক কম পাওয়া যায়।

ভাই ভাই মৎস্য আড়তের মালিক অমর দাস বলেন, আমরা যখনই বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারব না, তার প্রভাব সরাসরি জেলেদের ওপর পড়ে। পদ্মা সেতু খুলে গেলে রাতে ধরা মাছ ভোরবেলা সড়ক পথে ঢাকায় পাঠানো যাবে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায়। এতে করে মাছের গুণগত মান যেমন অক্ষুণ্ন থাকবে, দামও পাওয়া যাবে বাজারের অন্যান্য এলাকার মাছের চেয়ে বেশি। পদ্মা সেতু খুলে গেলে প্রতিযোগিতার বাজারে আমরাই হব সেরা। জেলেরা বেশি লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, চরবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রবীণ জেলে বাদশা মাঝি বলেন, ‘মাছ ধরি রাতভর কষ্ট করে মাঝে মধ্যে বাজার ভালো পাই আবার কম পাই। মহাজন জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালু হয়েছে, এখন আমাদের ভাগ্য খুলে যাবে। আমরা নাকি মাছ বিক্রিতে বেশি লাভ পাব।’

advertisement