advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘দেশি-বিদেশি ফুটবলারের মধ্যে বড় পার্থক্য’

২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২২ ০৯:৫৩ এএম
advertisement

চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছেন মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে। ১৬তম রাউন্ড শেষে দুটি হ্যাটট্রিকসহ তার নামের পাশে এখন ১৩টি গোল। এ নিয়ে মোহামেডান ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ আসরে খেলছেন তিনি। গত আসরে মোট ১৩টি গোল করেছিলেন। এর আগের দুটি আসরেও মাঠে আলো ছড়িয়েছেন।

তবে এবার নিজেকে আলাদাভাবেই মেলে ধরছেন এই বিদেশি ফুটবলার। লিগের শেষে দিয়াবাতে শীর্ষ গোলদাতা হন কিনা- সেটি দেখার বিষয়। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জোমো কসমস এফসির হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু তার। সেখানে দ্ইু বছর খেলার পর ভিয়েতনামের ‘ভি’-লিগের ক্যান থো, লং অ্যান এফসির হয়ে খেলেন। এই ফুটবলারের জন্মভূমি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে হলেও ভিয়েতনামের মেয়ে ট্রাক লিনকে বিয়ে করেছেন। ভিয়েতনামে ফুটবল খেলার সময় ওই তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় তার। তিন বছর সম্পর্কের পর ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। তাদের ঘরে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ফুটবল, প্রিমিয়ার লিগ, ব্যক্তিগত ও পরিবারসহ নানা প্রসঙ্গে দৈনিক আমাদের সময়ের ক্রীড়া প্রতিবেদক এম.এম. মাসুকের একান্ত সাক্ষাৎকারে অনেক কথাই বলেছেন ভিয়েতনামের জামাই বনে যাওয়া মালির ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার সুলোমান দিয়াবাতে। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটুকু তুলে দেওয়া হলো

advertisement 3

> মোহামেডান ক্লাবে সময়টা কেমন কাটছে?

advertisement 4

দিয়াবাতে : মোহামেডান ক্লাবে সময় খুবই ভালো কাটছে আলহামদুলিল্লাহ। সব কিছু ঠিক আছে। ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো আছি।

> বাংলাদেশে লিগ কতটা উপভোগ করছেন?

দিয়াবাতে : লিগ খুবই ভালো চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ হচ্ছে। খেলোয়াড়রাও খুব ভালো। আমি বলব যে আলহামদুল্লিাহ, এখন পর্যন্ত ভালো খেলছি। লিগের বাকি ম্যাচগুলোর দিকে এখন তাকিয়ে। আরও গোল করতে পারব ইনশাল্লাহ।

> ভিয়েতনাম লিগে আপনি খেলেছেন। এখন বাংলাদেশে খেলছেন। দুই দেশের ফুটবল লিগের মধ্যে পার্থক্যটা কী?

দিয়াবাতে : ভিয়েতনাম লিগ খুবই উন্নত। সেখানে ভালো দিন কেটেছে। সুযোগ-সুবিধা ভালো। ক্লাবগুলো নিজেদের মাঠে খেলে। ফুটবল ইউনিটি খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত। বাংলাদেশ লিগও ভালো। আপনি জানেন যে লিগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। মূল পার্থক্য ডেভেলপমেন্ট ও ফ্যাসিলিটির ক্ষেত্রে। তবে বাংলাদেশের লিগও ভালো। সত্যি কথা বলতে এখানে খেলোয়াড়দের জন্য ফ্যাসিলিটি সহজ নয়। ভিয়েতনামে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ফ্যাসিলিটি রয়েছে। খেলোয়াড়, বিদেশি, স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য সবকিছুই রয়েছে।

> আয়ের দিক দিয়ে কোন লিগ এগিয়ে?

দিয়াবাতে : এ ক্ষেত্রে আমি বলব ভিয়েতনাম লিগই এগিয়ে। সেখানে সব খেলোয়াড়ের সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

> সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে খেলেছে। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা বাহরাইন, তুর্কমেনিস্তান ও স্বাগতিক মালয়েশিয়ার কাছে হেরেছে। বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স সম্পর্কে কী বলবেন?

দিয়াবাতে : আমি দেখেছি, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। তবে আপনার কোচকে অনেক সময় দিতে হবে। কোচ যেন দলের জন্য ভালো খেলোয়াড় নির্বাচন করতে পারে। সম্ভবত বাংলাদেশ দুই-এক বছরে কোচ পরিবর্তন করে। নতুন কোচ আসলে নতুন খেলোয়াড়দের নির্বাচন করে। আমি মনে করি, একজন কোচকে অন্তত পাঁচ বছর সময় দেওয়া উচিত যাতে ফুটবলারদের খুঁজে নিতে পারে ভালো দল তৈরির জন্য। কিন্তু এক বছর বা দ্ইু বছরে কোচ পরিবর্তন করলে সেটি নতুন কোচদের জন্য ভালো খেলোয়াড় নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যায়। খেলোয়াড়দের নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। খেলোয়াড়রা খুবই ভালো। তারা ভালো ফুটবল খেলছে। কিছু ভুল করে। তবে সেগুলো শুধরে নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে কোচ ধরে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। চার-পাঁচ বছর কোচ কাজ করতে পারলে ভালো দল তৈরি করতে পারবে।

> বাংলাদেশের ফুটবলের মান কেমন?

দিয়াবাতে : বাংলাদেশের ফুটবল উন্নতি করছে। প্রতিবছরেই উন্নতি হচ্ছে। তবে বাফুফের উচিত বাংলাদেশের ফুটবল ও খেলোয়াড়দের প্রতি নজর দেওয়া। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। তারা নিজেদের প্রমাণ দিতে জানে। এজন্য তাদের সহযোগিতা করতে পারে বাফুফে। ভালো কিছু একাডেমি গড়তে পারে। প্রত্যেক দলের একাডেমির প্রয়োজন। মোহামেডানের একাডেমি রয়েছে, শেখ জামালের আছে। ফুটবলে যেন উন্নতি করতে পারে। অনেক দেশ একাডেমির উন্নতি করেছে। খেলোয়াড়রা সেখান থেকেই তৈরি হয় এবং ভালো ফুটবল যেন খেলতে পারে।

> বাংলাদেশের লিগে বিদেশি ও দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে মূল পার্থক্যটা কী?

দিয়াবাতে : লিগে বিদেশি ও দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়রা খুবই ভালো। তবে তাদের মাঠে অনেক সময় সমস্যায় ফেলে দেশি খেলোয়াড়রা। লোকাল খেলোয়াড়রা ভালো না তা নয়, তারাও ভালো। অনেক ভালো লোকাল খেলোয়াড় রয়েছে। তবে বিদেশিরা পার্থক্য গড়ে দেন। বাংলাদেশে আসার আগে বিভিন্ন লিগে খেলে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তাদের সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে এসে কাজে লাগায়।

> বাংলাদেশের পেশাদার লিগ অনেক দিন বন্ধ থাকে। এমন দীর্ঘ বিরতির লিগ কি আগে কখনো দেখেছেন?

দিয়াবাতে: না, এমনটা দেখিনি। কিন্তু এটি বাফুফের তত্ত্বাবধানে। জাতীয় দলের খেলা ছিল, খেলোয়াড়রা ফিরেছেন। এটি তাদের ব্যাপার। তবে আমার কাছে মনে হয়, এই বিরতি অনেক বেশি লম্বা। আবার মাঠে ফেরা কঠিন হয়ে যায়। লিগ শুরু হলে নতুন করে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত হতে হয়। ফিটনেস ঠিক থাকতে হয়। দুই সপ্তাহ খেলার বাইরে থাকলে ফিটনেস কমে যায়। লিগের এক বা দুই সপ্তাহ বিরতি হলে ভালো হয়। তা না হলে অলস খেলোয়াড়দের ফিটনেস কমে যায়। তাদের ব্যক্তিগতভাবে ট্রেনিং চালিয়ে যেতে হয়। অনেক কঠিন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন দীর্ঘ বিরতির লিগ আমি দেখিনি।

> সর্বশেষ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে খেলেছেন। দুর্দান্ত একটি গোলও উপহার দিয়েছেন। দেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের লড়াইটা কতটা উপভোগ করেন?

দিয়াবাতে : এই বছর আবাহনী খুবই ভালো দল গড়েছে। আমাদের দলও ভালো। আমাদের দলে তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। গত ম্যাচে সত্যি ভালো ফুটবল খেলেছি। এখানে সবাই ভালো খেলতে চায়। এই বড় দুই দলের ম্যাচ খুবই উপভোগ করি। এ ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের প্রত্যেকে মুখিয়ে থাকে। আবাহনী মোহামেডান অনেক বড় ম্যাচ। এ বছর তাদের দল ভালো। আমাদের দলও ভালো। তবে ফুটবল ভাগ্যেরও খেলা।

> আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলেন-

দিয়াবাতে : আমার পরিবার নিয়ে সুখে আছি। আমার এক কন্যাসন্তান রয়েছে। আমার বাচ্চা ও স্ত্রী ভিয়েতনামে থাকে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর ১২-১৫ বছর ধরে আমার মা ও ভাই মালিতেই থাকেন। এই হলো আমার পরিবার। সুবিখ্যাত ড্রাগন ফুড নিয়ে কাজ করেন আমার স্ত্রী। এই ড্রাগন ফুড ভিয়েতনাম থেকে চায়নায় রপ্তানি হয়। ফুড প্রসেসিং বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করেছে সে।

> আগে কোন কোন লিগে খেলেছেন?

দিয়াবাতে : আমার পেশাদার ফুটবলের শুরুটা আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। জোমো কসমসের হয়ে দুই বছর খেলেছি সেখানে। এরপর ভিয়েতনামে এসে খেলি। ভিয়েতনামের লিগে অনেক দিন খেলার পর এখন বাংলাদেশের লিগে খেলছি।

> বাংলাদেশের কোন খাবারটি আপনার সবচেয়ে পছন্দের?

দিয়াবাতে : বাংলাদেশের অনেক খাবার আমি পছন্দ করি। বিশেষ করে খিচুড়ি, বিরিয়ানি খুবই পছন্দ করি। অবশ্য আমিও রান্না করতে পারি।

> বাংলাদেশের কোন জায়গায়টি আপনার পছন্দের?

দিয়াবাতে : সত্যি কথা বলতে কী, আমি বেরই হইনি। ফেসবুকে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখেছি। যেমনÑ কক্সবাজার, সিলেট ইত্যাদি। তবে আমি কখনো কক্সবাজার যায়নি। যখন খেলার বিরতি থাকে আমি সব সময় রুমেই থাকি। আরামবাগের বাইরে তেমন একটা বের হই না।

> বাংলাদেশে আপনার কি কোনো বন্ধু আছে?

দিয়াবাতে : হ্যাঁ, অনেক বন্ধু আছে বাংলাদেশে। আমি আমার টিমমেটদের নিয়ে ভালো আছি। বাঙালি মানুষদের সম্পর্কে জানি। আমার বেশি সময় কাটে বাঙালি খেলোয়াড়দের সঙ্গেই। তারা সবসময় আমার প্রিয় বন্ধু। সুনির্দিষ্ট কোনো প্রিয় বন্ধু নেই। এখানে গোলরক্ষক বিপু, সুজন, শাহেদ, আবিদরা খুবই ভালো বন্ধু আমার। তারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেন।

> চলমান লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কি নিজেকে দেখছেন?

দিয়াবাতে : ফুটবলে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। আরও গোল করার চেষ্টা করব। রবিনহোও খুবই ভালো খেলোয়াড়। তবে গোল করা কঠিন। গোল পেলে বা না পেলেও সব সময়ই বলি আলহামদুল্লিাহ।

> নিজেকে ফিট রাখার জন্য কী করেন?

দিয়াবাতে : ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি নিজেকে নিয়ে আলাদাভাবেও কাজ করি। মাঝে মাঝে জিমে যাই। ছোট মাঠে খেলি। গোল করার চেষ্টা করি। পেনাল্টি, ফ্রি কিক নিয়ে কাজ করি। সব সময় চেষ্টা করি অনুশীলনে থাকার। শরীর ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি অনুশীলন করে যাই।

> সাক্ষাৎকারে মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিয়াবাতে : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে।

 

advertisement