advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

একদিনে হাসপাতালে ৩৫ ডেঙ্গু রোগী

২৭ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ০১:০১ এএম
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে আরেক আতঙ্কের নাম ‘ডেঙ্গু’। দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সংশ্লিষ্টরা যতটা তৎপরতা, ততটা দেখা যাচ্ছে না ডেঙ্গু দমনের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও মশককর্মীদের গাছাড়া মনোভাবে রাজধানীজুড়েই বাড়ছে মশার উপদ্রব। তা উদ্বেগজনক।

গত শনিবার দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৫ জন এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৩ জনই ঢাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে গত তিন দিনে মোট ৮৫ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর বাংলাদেশে এ রোগ প্রায় মহামারী আকার ধারণ করেছিল। তখন ডেঙ্গুজ্বরের ব্যাপক প্রকোপের কারণগুলো খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের গাফিলতিই ডেঙ্গুর প্রকোপ এত হওয়ার আংশিক কারণ। দুর্ভাগ্যের বিষয়, তাদের ওই গাফিলতি এ বছরও দূর হয়নি। তাদের মশানিধন কার্যক্রম যেন ঢিমেতেতালা এক মৌসুমি কাজ। মশার উপদ্রবে নগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও তাদের টনক নড়ে না। নগরবাসীর অভিযোগ শুরুর দিকে মশককর্মীরা নিয়মিত ওষুধ ছিটালেও বর্তমানে সেভাবে ছিটানো হয় না। ফলে মশার উপদ্রব আবার বেড়েছে।

advertisement

বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, গত বছর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবারও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার কারণেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এ কাজে তাদের অব্যবস্থাপনা-অনিয়মের অভিযোগও অনেক পুরনো। আমরা বলব, এখন থেকে মশক নিধনে কোনো রকমের গাফিলতির কারণে যেন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি না হয়। এডিস মশা ধ্বংস করতে হবে। মহানগরের বিভিন্ন স্থান জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি মশক নিধনের কার্যক্রম যথাসময়ে পদক্ষেপ নিয়ে আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লার মানুষ ও নাগরিক সমাজকে নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

advertisement