advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কমরেড মণি সিংহের জন্ম

২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ১১:৫৮ পিএম
advertisement

বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের শোষণমুক্তির লড়াই-সংগ্রামের পুরোধা কমরেড মণি সিংহ ছিলেন এ দেশের গণমানুষের নেতা। দেশের স্বাধীনতা অর্জন, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই কলকাতার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে

advertisement 3

জন্ম মণি সিংহের। বাবা কালী কুমার সিংহের মৃত্যু হলে মা সরলা দেবী সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুরে চলে আসেন।

advertisement 4

১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ কমরেড মণি সিংহ ১৯২৫ সালে প্রখ্যাত বিপ্লবী গোপেন চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনার পর মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে আদর্শরূপে গ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালের ৯ মে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৩৫ সালে জেল থেকে মুক্তি পেলেও নিজ গ্রাম সুসং দুর্গাপুরে তাকে অন্তরিন করে রাখা হয়। এ সময় কৃষক-ক্ষেতমজুরদের পক্ষ নিলে জমিদার মামাদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। পাটের ন্যায্যমূল্য দাবি করে কৃষকদের পক্ষে ভাষণ দিলে তার দেড় বছরের জেল হয়।

এলাকার মুসলমান কৃষক ও গারো হাজং প্রভৃতি আদিবাসীদের হয়ে ‘টংক প্রথা’র বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ১৯৪১ সালে মণি সিংহকে আবার গ্রেপ্তার করে ১৫ দিন আটক রাখা হয়। ১৯৪৪ সালে মণি সিংহ সারা বাংলার কৃষাণ সভার প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মণি সিংহের ওপর পাকিস্তান সরকারও দমন-নির্যাতন ও কারাবন্দি করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বন্দিরা রাজশাহীর জেল ভেঙে তাকে মুক্ত করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন, সাহায্য-সহযোগিতা আদায়ে কমরেড মণি সিংহের অবদান ছিল অবিসংবাদিত। তিনি ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনী গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুজিবনগর সরকারেরও ছিলেন উপদেষ্টা।

১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মণি সিংহ। ৮৪ বছর বয়স পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পার্টির দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

advertisement