advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিলেটে বন্যার বহুমুখী ভোগান্তি

সিলেট ব্যুরো
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ১১:৫৮ পিএম
advertisement

সিলেটে দ্বিতীয় দফার বন্যার পানি নামছে খুব ধীরে। সুরমা নদীর পানি কমলেও কুশিয়ারার পানি অপরিবর্তিতভাবে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, পানি কমছে ধীরগতিতে। সুনামগঞ্জে পানি বেশি থাকায় সিলেট থেকে পানি নামতে সময় লাগছে। তবে আশা করা যাচ্ছে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পানি নেমে যাবে। বন্যার পানি নামার ধীরগতির কারণে সিলেট নগরবাসীও পড়েছেন বহুমুখি ভোগান্তিতে। মূল সড়কগুলো থেকে পানি নেমে গেলেও পাড়া-মহল্লার ভেতরে পানি জমে আছে। এসব পানিতে ময়লা জমে কালো রঙ ধারণ করেছে। বাসিন্দারা এসব পানি মাড়িয়েই চলাফেরা করছেন। নগরের ছড়া, খালগুলোয় ময়লা-আবর্জনা পড়ে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে; ছড়াচ্ছে নানান রোগ-জীবাণু।

advertisement 3

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি না নামা পর্যন্ত সেগুলো পরিষ্কার করা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন,

advertisement 4

আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ব্লিচিং পাউডার আনা হয়েছে, কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সেগুলো ছিটানো হচ্ছে। এজন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে সোমবার দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এবারের বন্যায় না খেয়ে কিংবা বিনা চিকিৎসায় একজনও মারা যায়নি- এটাই বড় প্রাপ্তি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সিলেটে ১৪০টির বেশি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। প্রস্তুত রয়েছে আরও দুই হাজারের বেশি কর্মী। বন্যাকবলিত এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বন্যাপরবর্তী অসুখ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি।

চলমান বন্যায় ১৮ জুন পানি ঢুকে পড়ে ওসমানী হাসপাতালে। এতে তলিয়ে যায় হাসপাতালের নিচতলা। পানি ঢুকে পড়া ও বিদ্যুৎহীনতার কারণে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা। নতুন রোগী ভর্তিও বন্ধ হয়ে যায় সেদিন।

পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে হাসপাতালটির রেডিওথেরাপি, সিটিস্ক্যান ও এমআরআই যন্ত্র। ফলে ১৮ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে এসব সেবা। নষ্ট হয়ে গেছে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সও।

ওসমানী হাসপাতালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা না থাকা ও চিকিৎসাসেবা বিঘিœত হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এমন জলাবদ্ধতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ সময় সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিমাংশু লাল রায়, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পানি কমার আগ পর্যন্ত বানভাসিদের খাবার দেবে সরকার : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, যত দিন বন্যার পানি কমবে না, ততদিন বানবাসি মানুষদের খাদ্য দেবে এ সরকার। বন্যায় যাদের ঘর নষ্ট হয়েছে, ভেঙে গেছে তাদের পুনর্বাসনে ঘরগুলো পুনর্নির্মাণ করার জন্য যা যা লাগে তা করবেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ওসমানীনগরের সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি কথাগুলো বলেন।

বানভাসিদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে হানিফ বলেন, যতদিন পর্যন্ত পানি না নামে, আপনারা বাড়িতে না ফেরেন, ততদিন পর্যন্ত আপনাদের খাবার সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে কেউ খাবারের জন্য কষ্ট না পান। এ সময় আশ্রয়কেন্দ্রের উপস্থিত মানুষের মধ্যে ১০ জনকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু প্রমুখ।

advertisement