advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাড়ি ফিরে নতুন দুর্ভোগের মুখোমুখি বন্যাকবলিতরা

বিন্দু তালুকদার, সুনামগঞ্জ
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ১১:৫৮ পিএম
advertisement

সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিছু নিচু এলাকা ছাড়া বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বন্যাকবলিত লোকজন বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তবে বাড়ি ফিরে অনেকেই নতুন দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। বসতবাড়ি থেকে পানি নামলেও তাদের ঘরের বেড়া, দরজা, জানালা ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরের মাটি নরম কাদা হয়ে গেছে। উঠান ও ঘরের ভেজা মাটি একাকার হয়ে গেছে। বাড়ি ও বসতঘরের ভেতরে এবং আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ক্ষেতের ফসল হারানোর পর

advertisement 3

বিধ্বস্ত বাড়িঘর মেরামত করা এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

advertisement 4

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের জগাইরগাঁও গ্রামের কৃষক বশির উদ্দিন (৪৫)। গত ১৬ জুন তার বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন। ১০ দিন পর গত রবিবার বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তিনি বলেন, ধান-চাল, সব জিনিসপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ১০ দিন পর বাড়িতে ফিরেছি; কিন্তু ঘরের মাটি পানির নিচে থাকতে থাকতে নরম হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে বসবাস করা কঠিন। কবে যে ঘরের মাটি শুকাবে!

একই গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩৮) বলেন, এমন ভয়ঙ্কর বন্যা আমরার বাপ-দাদা তিন পুরুষও দেখেননি। পানির স্রোতে ঘরের বেড়া পর্যন্ত ভেঙে নিয়ে গেছে। বেড়ার মাঝে বিদ্যুতের মিটার ছিল সেটাও পানিতে ভেসে গেছে। ত্রিপলের সাহায্যে ঘরের বেড়া দিয়ে কোনোরকম বসবাস করছি। পানিতে কত জিনিসপত্র যে নষ্ট হয়ে গেছে হিসাব করার মতো না।

দ্বিতীয় দফা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাতক ও দোয়রাবাজার উপজেলায়। দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার জিরারগাঁও গ্রাম। ওই গ্রামের ছানা উল্লাহ (৫২) বলেন, বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাউকে বলে বুঝাতে পারব না। গ্রামের মুরব্বিরা বলছেন গত একশ বছরের মধ্যে এমন পানি দেখা যায়নি। আমার আধাপাকা বসতঘরটির কোনো চিহ্ন নেই। পানির স্রোতে ইটের দেওয়াল, এমনকি ভিটার মাটি পর্যন্ত ভেঙে নিয়ে গেছে।

বাংলাবাজারের পল্লী চিকিৎসক হারিস মিয়া বলেন, পানির তোড়ে পাকা ঘরবাড়ি পর্যন্ত ভেঙে গেছে। গ্রামের ১২/১৩টি বাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বাড়িগুলোতে বসবাস করার মতো অবস্থা নেই।

জেলা সিবিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেন, এ বছরের তিনবার বন্যা হয়ে গেছে। প্রথম দফায় অন্তত ৩০ হাজার কৃষকের সারা বছরের কষ্টের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর পর দ্বিতীয় দফা বন্যায় আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ৫/৭টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। তৃতীয় দফা বন্যায় সারাজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ বন্যার পানিতে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বন্যার পানিতে মানুষের ঘরবাড়ির বেশি ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে হবে। না হলে দরিদ্র মানুষরা তাদের বসতবাড়ি পুনঃনির্মাণ করতে পারবে না।

জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের বন্যায় সুনামগঞ্জের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানকার মানুষ কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য তথ্য সংগ্রহ চলছে। বন্যার পানি দ্রুত কমছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরছে। ৬২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৩৫০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরে গেছে। কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ শেষ হলে দুর্যোগপরবর্তী পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, এ এলাকায় এমন বন্যা অতীতে হয়নি। নদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতির তথ্য সকল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিতদের মাঝে ১১৫৬ টন চাল, এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা ও ২৩ হাজার বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যাদের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দের জন্য আমরা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

advertisement