advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাতের উজ্জ্বলতা বিশ্লেষণে বন্যার ঝুঁঁকি পরিমাপ

আমাদের সময় ডেস্ক
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১২:১৪ এএম
advertisement

রাতের আলোর উজ্জ্বলতা বিশ্লেষণ করে বন্যার ঝুঁঁকি পরিমাপের অভিনব এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত ২০ বছরে এই ঝুঁঁকি অনেক বেড়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্যাটেলাইট থেকে তোলা রাতের ছবি বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন নদনদীর অববাহিকা এবং প্লাবনভূমিতে মানুষের কর্মকা- বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি মানুষ বন্যার ঝুঁঁকিতে পড়েছে। রাত্রিকালীন এই আলো থেকে দেশের কোথায় কোথায় মনুষ্য-বসতি গড়ে উঠেছে সে সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণা করেছেন। গতকাল সোমবার বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। লন্ডন থেকে যা লিখেছেন মিজানুর রহমান খান।

advertisement 3

বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই দশকে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে রাতের উজ্জ্বলতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে এই এলাকা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত। এই গবেষণার এক হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় আট কোটি ৭০ লাখ মানুষ সরাসরি

advertisement 4

বন্যার ঝুঁঁকিতে রয়েছে - যারা নদনদীর দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বসবাস করে। আর যারা ঘন ঘন বন্যা বা অতিবন্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁঁকিতে রয়েছেন তাদের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় ভয়াবহ বন্যার জন্য বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করলেও তারা বলছেন, হাওড় এলাকায় মানুষের নানা ধরনের অবকাঠামো তৈরির কারণে সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এই গবেষণায় নাসার একাধিক স্যাটেলাইট থেকে তোলা বাংলাদেশের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন রাতে দুবার করে এসব ছবি তোলা হয়। একবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটা এবং আরেকবার রাত দুটো থেকে তিনটার মধ্যে এসব ছবি ধারণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে তোলা এসব ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখার চেষ্টা করেছেন কোথাও কোথায় আলোর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু রাত্রিকালীন আলোর এই ঔজ্জ্বল্য দিয়ে কীভাবে বন্যার ঝুঁঁকি পরিমাপ করা হলো? এই প্রশ্নের জবাবে গবেষণা দলের প্রধান এবং কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, ‘রাতের আলো আমাদের কিছু বিশেষ ধারণা দেয়। এই আলো থেকে আমরা মানুষের দৈনন্দিন কর্মকা-ের ব্যাপারে একটা চিত্র পেতে পারি। কোথায় উজ্জ্বলতা বেশি, কোথায় কম, কেন বেশি, কেন কম- এসব বিশ্লেষণ করে আমরা মানুষের কর্মকা-ের ব্যাপারে ধারণা পেতে পারি। সেটা হতে পারে বসতবাড়ি, কলকারখানা অথবা নানা ধরনের অবকাঠামো। রাতের এই আলোর সাহায্যে বোঝা যায় কোথায় মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে এবং কোথায় বসতি হয়নি।’

এই গবেষণায় আরও যুক্ত ছিলেন পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ড. আরিফ মাসরুর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মাহবুব মুর্শেদ। গবেষণায় ভূ-উপগ্রহ থেকে তোলা রাতের আলোর পাশাপাশি ভৌগোলিক তথ্য, ভূমির ব্যবহার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জনসংখ্যার বণ্টন, বিদ্যুতের সরবরাহ ইত্যাদি তথ্যউপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে সারাদেশে গত ২০ বছরে কী পরিমাণ প্লাবনভূমি মানুষের দখলে চলে গেছে। এবং এর ফলে কোন কোন অঞ্চলে বন্যার ঝুঁঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দেশে বড় বড় নগর বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, যশোর, খুলনা এসব শহরে যেসব প্লাবনভূমি আছে সেগুলো গত ২০ বছরে মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়াও ছোট-বড় যেসব নদনদী আছে সেগুলোর অববাহিকায় অর্থাৎ দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মানুষের উপস্থিতির হার ২০০০ সালের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

advertisement