advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাটিংয়ে ছন্নছাড়া টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১২:১৯ এএম
advertisement

বারবার ব্যাটসম্যানরা কেন ব্যর্থ হচ্ছেন? সাদা পোশাকে তাদের মলিন পারফরম্যান্সের কারণেই দল প্রত্যাশিত রেজাল্ট করতে পারছে না। বিশেষ করে টপঅর্ডারের ব্যর্থতা ভাবিয়ে তুলেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের স্কিল কিংবা টেকনিকে সমস্যা ধরা পড়ছে না; কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তা পরিষ্কার। সেটিই চিন্তার বিষয়। দলে একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার থাকার পরও ম্যাচের পর ম্যাচ হারের তেতো স্বাদ পেতে হচ্ছে দলকে। টাইগারসমর্থকরা রীতিমতো হতাশ। কেন এমনটি হচ্ছে? এর উত্তরটা যেন অজানা। নতুন টেস্ট অধিনায়ক পাওয়ার পরও দলের পারফরম্যান্সের কোনো উন্নতি নেই। সবার আশা ছিল সাকিবের নেতৃত্বে বদলে যাবে দল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজে তা আর হলো কই? প্রথম টেস্ট চার দিনে হারার পর দ্বিতীয় টেস্টেরও যে একই পরিণতি। এবং দুই টেস্টেই ব্যাটসম্যানরা ছিলেন মলিন। প্রতিপক্ষ দলের বোলারকে উইকেট উপহার দিয়েছেন কেউ কেউ। অথচ এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটা শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। তবে অ্যান্টিগা ও সেন্ট লুসিয়া টেস্টে তারা দাপট দেখিয়ে খেলেছে। যেটি বাংলাদেশ পারেনি। এবং এ জন্য অবশ্যই ব্যাটসম্যানদেরই কাঠগড়ায় তুলতে হচ্ছে। বিসিবি সভাপতি অবশ্য ইতিবাচক কথাই বলছেন। তার মতে, এবারের পারফরম্যান্স ভালো। নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এই যে আমাদের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেল, আমরা অবশ্যই চাইব আমাদের দল জিতুক। কিন্তু আমরা যদি মনে করি ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে দল হেরে গেলে দলের খুব খারাপ অবস্থা, এটিতে কিন্তু আমি একমত নই। সারাজীবন তো হেরেই আসছি! বরং প্রথম টেস্টের কথা যদি বলি, শেষবার যখন গিয়েছি ২০১৮-তে, তার চেয়ে এবারের পারফরম্যান্স ভালো। অবশ্যই এটি আমার কাছে একটা উন্নতি।’

এ বছর বাংলাদেশ দলের বড় অর্জনটি ছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। মুমিনুলের নেতৃত্বে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জিতে ইতিহাস রচনা করেন টাইগাররা। তবে সাফল্যের ধারাটা ধরে রাখতে পারেননি তারা। সাউথ অফ্রিকা সফরের টেস্টে ভরাডুবির পর দেশের মাটিতে শ্রীলংকা সিরিজটাও হারতে হয়েছে। এর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজের রেজাল্ট তো সবারই জানা। প্রতিটি সিরিজে দলের হারের জন্য ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দায়ী করা হচ্ছে। তবে বোলাররা বেশ ভালো করছেন। তাদের কাঠগড়ায় তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু টেস্ট জিততে হলে ব্যাটসম্যানদের পারফরম করাটা জরুরি। বাংলাদেশ দল এখানেই ব্যর্থ। যাদের একাদশে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তারা তো নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। ধারাবাহিকভাবে রান পাচ্ছেন না। বিকল্প খেলোয়াড় না থাকায় ম্যাচের পর ম্যাচ, সিরিজের পর সিরিজ অফফরমে থাকা খেলোয়াড়দেরই সুযোগ দিতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে! দলের অভিজ্ঞ ওপেনার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল শেষ ছয় ইনিংসে কোনো ফিফটি করতে পারেননি। তার ছয় ইনিংসে রান ০, ০, ২৯, ২২, ৪৬, ৪। শেষ ছয় ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই মাহমুদুল হাসান জয়ের। ০, ১৫, ০, ৪২, ১০, ১৩ রান এসেছে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে। শেষ ছয় ইনিংসে শান্ত রান করেছেন ৮, ২, ০, ১৭, ২৬, ৪২। মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে এসেছে ৫, ২, ৯, ০, ০, ৪ রান। টপঅর্ডার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলে দলের কাছ থেকে ভালো রেজাল্ট আশা করা যায় না। বাংলাদেশ দলের নিয়মিত হারের অন্যতম কারণ এটিই।

advertisement 3

advertisement 4

advertisement