advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘দেখি, বিএনপি নেতারা সেতুতে ওঠে কিনা’

সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনা

২৮ জুন ২০২২ ১০:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১০:৪৩ পিএম
advertisement


জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, পদ্মা সেতু দেখে বিএনপিসহ বিরোধিতাকারী-ষড়যন্ত্রকারীদের বুকটা ফেটে যাচ্ছে, অন্তর্জ্বালায় ভুগছে। বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতুতে ওঠে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তারা দেশের উন্নয়ন দেখে না, কারণ এরা পাকিস্তানের চর-দালাল। আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
গতকাল সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি, টিআইবিসহ অন্যরা প্রতিবার বলে, বাজেট বাস্তবায়িত হবে না। কিন্তু প্রতিটি বাজেট ৯৫-৯৭ ভাগ বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ সরকার। পদ্মা সেতু হচ্ছে মানুষের আবেগ, গর্ব, সক্ষমতা ও ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেওয়ার সেতু। একজন শেখ হাসিনা না থাকলে কোনো দিনই পদ্মা সেতু হতো না। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু মাল্টিপারপাস সেতু। ট্রেন-গাড়ি শুধু নয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ সবাই রয়েছে। সমগ্র পৃথিবী এই পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রশংসা করেছে। সবাই বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রশংসা করছে। বিএনপি কিন্তু অভিনন্দন জানাতে পারেনি।
পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে। নাট-বল্টু যে খুলেছে সেই টিকটককারী ছাত্রদল করত। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের মুখে কোনো কথা নেই। অনেকে মানবাধিকারের কথা বলে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের মানবাধিকার অনেক উন্নত। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই শ’র মতো গুলির ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বাঙালি জাতির জীবনে দুটি হিমালয়সম অর্জন রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন। আর এ স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আরেকটি বৃহৎ অর্জন হচ্ছে, শত বাঁধা-বিপত্তি এবং ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত পেরিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। আর এ বৃহৎ অর্জনের মহানায়ক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আর এই পদ্মা সেতু আরও বহু কিছু অর্জনের পথ খুলে দিয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, খাদ্যের অভাব হবে নিরুদ্দেশ। আজ আর উত্তরাঞ্চলে মঙ্গার কথা কেউ বলে না। সত্যিই তিনি দেশে খাদ্যের অভাবকে নিরুদ্দেশ করেছেন। সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের মজবুত অর্থনৈতিক শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিএনপি চোখে কোনো উন্নয়নই দেখতে পায় না। এরা চোখ থাকতেও অন্ধ। কারণ দলটি একটি জগাখিচুড়ির দল, মার্কাটাও মওলানা ভাসানির ধানের শীষ নিয়েছে।
হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘১৩ বছর ধরে টানা হাল ধরে দেশকে দুর্বার গতিতে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, নোয়াখালী-বগুড়াকে বঞ্চিত করেননি। দুহাত ভরে সমতার ভিত্তিতে পুরো দেশকে উন্নয়নে ভরে দিয়েছেন। দেশের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের ছোঁয়া নেই। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে বিএনপি আবোলতাবোল বকছে। এরা পাকিস্তানের প্রেমে অন্ধ, তাই সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির একজন এমপি বলেন, পদ্মা সেতু গোল্ডেন টয়লেট। এই বক্তব্য অবশ্যই এক্সপাঞ্জ করতে হবে। আমরা এখন দেখি, বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতুতে ওঠে কিনা।’
সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনকল্যাণে যতবার বাজেট দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করে দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের অর্থনৈতিক ৪১তম শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশ। পদ্মা নদী বাংলাদেশকে দু’ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিল। কিন্তু শত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে পুরো দেশকে এক কাতারে নিয়ে এসেছেন। অথচ সরকারের অর্জন বিএনপি চোখে দেখে না। এরা পাকিস্তানের চর, দালাল। এখনো বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি, তাদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত।
আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের শহীদুজ্জামান সরকার, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, একেএম রহমতুল্লাহ, আশেক উল্লাহ রফিক, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু প্রমুখ।

 

advertisement 3
advertisement