advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক
ইভিএমের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১১:২০ পিএম
advertisement

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে মতবিনিময়ে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেদের অবস্থান জানান। গতকাল এ সভায় আমন্ত্রিত ১৩টি দলের মধ্যে ১০টির প্রতিনিধি অংশ নেন। এর মধ্যে ৪টি দল ইভিএমের পক্ষে মত দেয়। ইভিএমের কারিগরি দিক যাচাই এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে যন্ত্রটির ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে মতবিনিময়ে চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন। স্বাগত বক্তৃতায় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা

advertisement 3

যখন দায়িত্ব নিই, কিছু দিন পর থেকেই ইভিএম নিয়ে কথাবার্তা পত্রপত্রিকায় চাউর হয়েছিল। এর পক্ষে ও বিপক্ষেই বেশি কথাবার্তা হয়েছে। আমাদের শুরু থেকে ইভিএম সম্পর্কে সে রকম ধারণা ছিল না। আমার ব্যক্তিগত ধারণাও ছিল না। আমরা ইতোমধ্যে ইভিএম নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এখন আমাদের মোটামুটি ধারণা আছে।

advertisement 4

দুটি সংলাপে অনেকেই ইভিএমের পক্ষে বলেছেন জানিয়ে সিইসি বলেন, আরও উন্নত প্রযুক্তির ইভিএম হলে ভালো হয়। আবার অনেকে সরাসরি বলেছেন- ইভিএমে নির্বাচনে যাবেন না। সিইসি বলেন, আমরা ইভিএমের অন্ধ গ্রাহক ছিলাম না। সব আলোচনা লিপিবদ্ধ করেছি। সম্পূর্ণ বা ফিফটি-ফিফটি করব কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেব। আগস্ট থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করব, তখন সব আলোচনা করব। আমরা কিন্তু কোনো বাজে মতলব নিয়ে আসিনি বা আমাদের কোনো পক্ষ থেকে এই ধরনের কোনো আশ্বাসও কেউ দেননি।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএমে ইন্টারনেটের কোনো সম্পর্ক নেই, বিধায় হ্যাকিংয়ের কোনো আশঙ্কা নেই। যে সংশয়টা, আমি নিজেও কিন্তু গুজবে বিশ্বাসী। গুজব শুনতে খুব ভালো লেগেছে। আমার জীবনও ওভাবে কেটেছে। এখন যখন আমাকে নিয়ে কথা শুনি, সেগুলো কিন্তু সত্য নয়। অথচ আমি আগে এভাবেই গুজবে বিশ্বাস করতাম। আসলে মানুষের স্বভাবটাই হচ্ছে, গুজবটা খুব শুনতে ভালো লাগে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক চাপ আমাদের ওপর নেই। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, সেই সময় সরকার থাকবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ থাকবে না। সরকার আর আওয়ামী লীগ এক নয়। আমরা সরকারের কাছে হেল্প নেব। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কোনো হেল্প নেব না। প্রশ্নই আসে না।

সরকারের কাছ থেকে সহায়তা আদায় করে নেবেন জানিয়ে সিইসি বলেন, যেই সহায়তা আমরা প্রাপ্য সেটি আমাদের দিতে হবে। সেই সহায়তা যদি দেওয়া না হয়, আপনারা যদি আশা করেন যে, সুন্দর ইলেকশন হবে, সুন্দর ইলেকশন হয়তো হবে না। আরেকটা জিনিস হলো- আমরা আপনাদের মাঝে ঐক্য চাচ্ছি, নির্বাচন মাঠে সবাই থাকবেন। বিভিন্ন পার্টির উপস্থিতি এক ধরনের ভারসাম্য সৃষ্টি করে নির্বাচনের মাঠে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মোতায়েনের বিষয় থাকে। যেহেতু আমরা একদিনেই নির্বাচন করব বা সবাই যদি চান চার দিনে ইলেকশন করার, কারণ আমরা একটা সংকট দেখি সেন্টারে। কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত ফোর্স দিতে পারছি না। সেই ফোর্সটা লাগত না, যদি সব দল নির্বাচনের কেন্দ্রে এসে দাঁড়াত, তা হলে ওরাই ফোর্স হয়ে যেত। ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করব স্যার, আপনারা সরকারে থেকে আমাদের সরকারি সাহায্য সহায়তা দেবেন। আমরা যে সহায়তা চাইব তা সাগ্রহে প্রদান করবেন। এ সময় ওয়াবদুল কাদের হ্যাঁ বলেন।

সভাশেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাখঢাক করার কিছু নেই। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য হারে ইভিএমের ব্যবহার বাড়াতে হবে। মন থেকে চাই, চেতনা থেকে চাই। ৩০০ আসনে ইভিএম হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সাপোর্ট করি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইলেকশন। এ কারণে বিএনপির মতো একটি বড় দল বাইরে থাকবে, এটি আমরা চাই না। দল হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে তারা আসবে। আমরা এটিই বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, দল হিসেবে আমরা বলেই যাচ্ছি। আমরা পদ্মা সেতুতেও দাওয়াত দিয়েছি। দেখেন, আমাদের একটা পজিটিভ অ্যাটিচিউড আছে। তারা (বিএনপি) নিজেরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো শেষ বেলায়, ঘোলা করে খাবে আর কী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি অবাক হয়ে শুনি ফখরুল সাহেব বলেন- ‘এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না।’ ইলেকশন তো এই সরকারের অধীনে হবে না। হবে ইলেকশন কমিশনের অধীনে। এখনো আমরা নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দিয়েছি। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। আপনারা কি সব আসনে ইভিএম চান, এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা চাই। আমরা যখন দেখেছি, রাজশাহীর একটা ইউনিয়ন, একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ইউনিয়ন, সেখানে দিনের আলোও ঠিকমতো যায় না, ঠিক এ রকম একটা জায়গা। তো ইভিএমে ইলেকশন হয়েছে। অংশগ্রহণ ছিল বিশ্বাসযোগ্য। প্রচুর উপস্থিতি এবং মহিলারা পর্যন্ত লম্বা লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছে। কাজেই ইভিএম অজনপ্রিয়- এ কথা বলার আর এখন কোনো প্রয়োজন নেই।

আরেক প্রশ্নে কাদের বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হয়, বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার সরকার সেটিই অনুসরণ করবে। দেখুন নির্বাচন ব্যবস্থায় আইনের মাধ্যমে কমিশন গঠন হয়। এখানে একটা পজিটিভ চেঞ্জ হয়েছে। এটি আমরা আরও উন্নত করতে চাই, এ নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে। এটি আমরা ইঙ্গিত করে গেলাম। আমরা আরও উন্নত করতে চাই।

গত ১৯ ও ২১ জুন দুই ধাপে ২৬টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ইভিএম যাচাইবিষয়ক সভা করেছে ইসি। দুই ধাপে ১৮টি দল উপস্থিত হলেও সাড়া দেয়নি বিএনপিসহ আট দল। গতকাল তৃতীয় এবং শেষ সভায় অংশ নেয় আওয়ামী লীগ, তরিকত ফেডারেশন, সাম্যবাদী দল-এমএল, গণতন্ত্রী পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা, জাসদ, বাংলাদেশ ন্যাপ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। এ ছাড়া গণফোরামের প্রতিনিধিও অংশ নেন, যাদের আমন্ত্রণ ছিল ২১ জুন। সিপিবি, বাসদ, এলডিপি আমন্ত্রণ পেয়েও আসেনি।

advertisement