advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল আশুলিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
২৯ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১১:২০ পিএম
advertisement

সাভারের আশুলিয়ায় বখাটে শিক্ষার্থীর হামলায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার (৩৫) নিহতের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। ঘাতক শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতু এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ।

advertisement 3

জিতুকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেন হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন সর্বস্তরের জনগণ। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে

advertisement 4

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সাভার ও আশুলিয়া স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের ব্যানারে অধর চন্দ্র স্কুল মাঠে শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে শিক্ষক হত্যাকারী ওই শিক্ষার্থীকে আটক করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন শিক্ষকরা।

এসব প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো সভ্য সমাজে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীর হাতে এভাবে একজন শিক্ষক হত্যা নজিরবিহীন। এটি গোটা দেশ ও জাতির জন্য একটি ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক ঘটনা। অবশ্যই দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর আড়ালে কোনো রহস্য আছে কি না তা-ও উদঘাটন করতে হবে। তা না হলে সমাজে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে।

নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামের মৃত অজিত কুমার সরকারের ছেলে। তিনি স্থানীয় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক ছিলেন। আর বখাটে আশরাফুল ইসলাম জিতু ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র।

শিক্ষক হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। তবে মূল আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম জিতু ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য। তার উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা এবং ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষকের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন জিতু। গত শনিবার দুপুরে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে সে আচানক ক্রিকেটের স্ট্যাম্প তুলে নিয়ে ওই শিক্ষককে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন এবং তলপেটে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যা কন্দ্রে চিকিৎসাধীন রবিবার ভোরে তিনি মারা যান।

advertisement