advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের যত অর্জন

আজহারুল ইসলাম অভি
১৯ জুলাই ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২২ ০৯:০৫ এএম
advertisement

প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা এখন নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। ১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগের মহাবিশ্বের রঙিন ছবি তুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। সম্প্রতি এ রকম একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। আমাদের আজকের আয়োজন নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ বা জেডব্লিউএসটি নিয়ে। ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন- আজহারুল ইসলাম অভি

১৯৯৬ সালে প্রথম জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বানানোর পরিকল্পনা করা হয়। ১৭টি দেশ মিলে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা। পাশাপাশি ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সিরও এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যন্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে জেমস ই. ওয়েবের নামানুসারে। তিনি ছিলেন নাসার দ্বিতীয় প্রশাসক এবং অ্যাপোলো অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর একটি দল নাসার জেডাব্লিউএসটির সঙ্গে কাজ করছে। তার মধ্যে আছেন বাংলাদেশের মেয়ে লামীয়া আশরাফ মওলাও। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার ¯ু‹লের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তিনি।

advertisement

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ। এতে ৬.৫ মিটার চওড়া সোনার প্রলেপ লাগানো প্রতিফলক আয়না আছে এবং আছে অতি সংবেদনশীল ইনফ্রারেড তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে যন্ত্রপাতি।

দূরবর্তী আকাশের ছবি তোলার জন্য টেলিস্কোপটিতে রয়েছে নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা, নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেক্টোগ্রাফ, মিড-ইনফ্রারেড ইনস্ট্রুমেন্ট এবং নিয়ার ইনফ্রারেড ইমেজার ও স্লিটলেস স্পেক্ট্রোগ্রাফ। টেলিস্কোপটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে হাবল টেলিস্কোপ ত্রুটি সারানো গেলেও এটি সংস্কারের কোনো সুযোগ নেই। টেলিস্কোপটিতে থাকা নিয়ার ইনফ্রারেড ইমেজার ও স্লিটলেস স্পেক্ট্রোগ্রাফ ০.৬ থেকে ৫ মাইক্রন পর্যন্ত আলো ক্যাপচার করতে পারে।

এখন পর্যন্ত যত অর্জন ১৩০০ কোটি বছর আগের ছবি সংগ্রহ : পৃথিবী সৃষ্টিরও আগের গহিন মহাশূন্যের হাজার হাজার গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের ছবি তুলে পাঠিয়েছে নাসার ‘জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।’ মহাবিশ্বের এ ছবি নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গেছে। গত সোমবার নাসার প্রকাশিত ছবিটি মহাকাশের একটি ছায়াপথগুচ্ছের। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসএমএসিএস ০৭২৩’। নাসার নিজস্ব ওয়েবসাইটে নাসা জানিয়েছে, ছবিতে এসএমএসিএস ০৭২৩-এর যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে তা ৪৬০ কোটি বছর আগের। আর বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বয়স আনুমানিক ৪৫০ কোটি বছর। অর্থাৎ মহাকাশের ছবিটি পৃথিবী নামের এ গ্রহের জন্মেরও আগের। পৃথিবী থেকে ১৬ লাখ কিলোমিটার দূর থেকে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। মাত্র ১২.৫ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে ছবিটি তুলতে সক্ষম হয় টেলিস্কোপটি। পূর্বসূরি হাবল টেলিস্কোপের এ মাত্রার কাজ করতে লাগত কয়েক সপ্তাহ।

বৃহস্পতির ছবি সংগ্রহ : ১২ জুলাই গভীর ও দূরতম মহাবিশ্বের বিস্তারিত দৃশ্য প্রকাশের পর বৃহস্পতি গ্রহের চোখ ধাঁধানো ছবি পাঠিয়েছে টেলিস্কোপটি। এই ছবিতে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহটির বলয় ছাড়াও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে এর তিন চাঁদ- ইউরোপা, থিব ও মেটিস। গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য জেমস ওয়েবের যন্ত্র প্রস্তুত কিনা, তা যাচাই করতে গত মঙ্গলবারের আগে তিনবার বৃহস্পতির ছবি তুলেছেন নাসার গবেষকরা। সে ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে ‘স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউট’-এর ‘মিকালস্কি আর্কাইভ ফর স্পেস টেলিস্কোপ’-এ। এর প্রথম ছবিতে বৃহস্পতির বলয় দেখা না গেলেও দেখা গেছে গ্রহটির চাঁদ ইউরোপাকে। এমনকি ‘গ্রেট রেড স্পট’ নামে পরিচিত বৃহস্পতির পৃষ্ঠের দানবীয় ঝড়টিও দেখা গেছে স্পষ্ট। মার্কিন গবেষণা সংস্থা বলছে, এই ঝড় এতটাই বড় যে, পুরো পৃথিবীকে গিলে ফেলতে পারবে।

১১৫০ আলোকবর্ষ দূরের গ্রহে মেঘের সন্ধান : নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে পৃথিবীর সৌরম-লের বাইরে একটি গ্রহের আকাশে দেখা গেছে মেঘ আর কুয়াশা; অথচ আগে ভাবা হতো তপ্ত ওই গ্রহের আকাশ একেবারে পরিষ্কার। স্পেস ডটকম জানিয়েছে, সৌরম-লের বাইরের গ্রহকে বলে এক্সোপ্ল্যানেট। নাসা এ গ্রহের নাম দিয়েছে ডব্লিউএএসপি-৯৬বি। এই এক্সোপ্লানেটটিও সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। মূলত হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন দিয়ে গঠিত বলে এসব গ্রহকে বলে ‘গ্যাস দানব’। এ ধরনের গ্রহের মধ্যে যেগুলো নক্ষত্র থেকে দূরত্ব আর পৃষ্ঠদেশের অতি উষ্ণতার কারণে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির মতো দেখতে, জ্যেতির্বিদরা সেগুলোকে বলেন ‘হট জুপিটার’। ডব্লিউএএসপি-৯৬বি এ রকম একটি হট জুপিটার। জেমস ওয়েবের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই গ্রহের বায়ুম-লে পানি, মেঘ আর কুয়াশা থাকার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। আর এই আবিষ্কারে পৃথিবীর বাইরে বসতি গড়ার সম্ভাব্য ধারণা যেন হালে আরও পানি পেল। ওয়েবের উপাত্ত থেকে গবেষকরা ওই গ্রহে কী পরিমাণ জলকণা রয়েছে তা জানার চেষ্টা করবেন। সেই সঙ্গে জানা যাবে গ্রহে কার্বন ও অক্সিজেনের উপস্থিতি ও বায়ুম-লের তাপমাত্রা। এসব তথ্য থেকে জানা সম্ভব হবে কীভাবে, কখন এই গ্রহের জন্ম হয়েছিল।

 

 

advertisement