advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওসমানীনগরে প্রবাসীদের মৃত্যু এখনও ‘রহস্য’

ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধি
২৭ জুলাই ২০২২ ১০:০৪ পিএম | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২২ ১১:৫৭ পিএম
ওসমানীনগরে প্রবাসীদের মৃত্যু এখনও ‘রহস্য’। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

সিলেটের ওসমানীনগরে প্রবাসী বাবা-ছেলের নিহত ও পরিবারের অন্য তিন সদস্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্তের ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার দিন থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ঘটনার কোনো ক্লুই উদঘাটন করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

advertisement

গত মঙ্গলবার অচেতন অবস্থায় ৫ প্রবাসীকে তাজপুরের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহত রফিকুল ইসলামের শ্যালক দিলোয়ার তার স্ত্রী শোভা বেগম এবং ভাই সেবুলসহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো.মফিজ উদ্দিন জনিয়েছে, ঘটনার ক্লু উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত থানা ইউডি মামলা হবে। ক্লু উদঘাটনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে পরবর্তীতে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুসনেআরা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা ভাল। তবে একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামের অবস্থা আঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন তাজপুর স্কুল রোডে ঘটনাস্থলের বাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় ডিআইজির সঙ্গে ছিলেন, সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল রফিকুল ইসলাম ও ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এসএম মাঈন উদ্দিন।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন জানান, পুলিশ বিভিন্ন বিষয় মাথা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পরিবারের ভেতর না বাহির থেকে কেউ বিষ প্রয়োগ করেছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত তদন্তের বড় ধরণের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে, আজ বুধবার নিহতের দুই ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ও বিজেকুল ইসলাম, বোন শাহীনা বেগম ও মা জরিনা বেগম যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করবে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

নিহতদের লাশ উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বড় ধিরারাই গ্রামের নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে নিহতদের স্বজনরা।

নিহত রফিকুলের শ্বশুর আনফর আলী বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার মেয়ে জামাই নিজ হাতে বাজার থেকে বার্গারসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড কিনে আনেন। রাতে তারা পরিবারের সবাই ফাস্টফুড খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। সকালে ডাকাডাকি করে না উঠায় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় ৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার আমার মেয়ে জামাই রফিকুল ও নাতি মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চাই।’

এদিকে নিহত রফিকুলের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যর কার্ডিফ শহরে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের ওসমানীগরের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় দেখা দিয়েছে।

advertisement