advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবসর ভাতার দাবি প্রবাসীদের

সাদকে রিপন,কুয়েত
৩ আগস্ট ২০২২ ০৪:২৭ পিএম | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২২ ০৫:৪১ পিএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

জীবন জীবিকার তাগিদে ও পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ প্রবাসী বসবাস করেন। তার মধ্যে কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীদের বসবাস। যাদের বেশিরভাগই দেশগুলোতে নির্মাণ শ্রমিক, ক্লিনিং, সিকিউরিটিসহ বাসা-বাড়ীতে কাজ করে থাকেন।

স্কুল অথবা কলেজের গন্ডি শেষ করা বা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের একটি বড় অংশ পরিচিত আত্মীয়স্বজন অথবা দালালের মাধ্যমে ঋণ করে, জমিজমা বিক্রি করে পাড়ি দেন বিদেশে। প্রবাসে এসে এই তরুণদের শুরু হয় বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার জীবন সংগ্রাম। 

advertisement

বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা বৈধ পথে পাঠানো কষ্ট অর্জিত অর্থ দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই প্রবাসীরা দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে পরিবারের বোঝা ও অবহেলার পাত্রে হয়ে উঠে। দেশে ফিরে কিছুই করার শক্তি ও সার্মথ্য থাকে না এসব প্রবাসীদের। তাই সরকাররের কাছে এ সকল প্রবীণ প্রবাসীদের জোর দাবি দীর্ঘদিন দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে অবদান রাখায় শেষ বয়সে তাদের অবসর ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।

কুমিল্লার জেলার কুয়েত প্রবাসী এয়াকুল আলী মজুমদার জানান, তার প্রবাসের ৩৫ বছর শেষ করে ৩৬ বছরে শুরু। পাসপোর্ট অনুসারে নিজের ৬৩ বছর চলছে। কুয়েতের নিয়ম- কানুন অনুযায়ী ষাটোর্ধ প্রবাসীদের আকামা লাগাতে প্রায় ৮শ কুয়েতি দিনার যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এতো টাকা দিয়ে আকামা লাগানো এখন তার পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়াও এই বয়সে দেশে গিয়ে পরিশ্রম করা নতুন করে কাজকর্ম শুরু করাও তার পক্ষে সম্ভব না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবসর ভাতার দাবি জানান তিনি।

নোয়াখালি জেলার কুয়েত প্রবাসী আলমগীর হোসন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে এখন বাংলাদেশে ফেরত যেতে চাই। কিন্তু দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো তা বুঝছি না। দীর্ঘদিন দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখায় শেষ বয়সে আমাদের অবসর ভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানাই।’

কুয়েত প্রবাসী রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা জানান, ‘সরকারের পক্ষ হতে আমাদের প্রবীণ প্রবাসীদের জোর দাবি তাদের শেষ বয়েছে পরিবারসহ ভালোভাবে জীবনমান চলানোর জন্যে অবসর ভাতা চালু করা হোক। এর ফলে একদিকে যেমন প্রবাসীরা দেশে ফিরে উন্নত জীবন যাপন করতে পারবে অন্যদিকে অবসর ভাতার সুযোগে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।’

advertisement