advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খসড়া নিয়েই আলোচনা হচ্ছে ১১ বছর

এম এইচ রবিন
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:৩২ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

 

প্রায় ১১ বছর ধরে শিক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে কেবল আলোচনাই হচ্ছে। আলোচনা-পর্যালোচনা পর্ব পেরিয়ে এটি চূড়ান্ত হবে কবে, তা কেউ জানে না। জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বড় একটি অনুষঙ্গ এই আইন। ১২ বছর আগে প্রণীত শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল ২০১৮ সালের মধ্যে। কিন্তু ২০২২ সালের অর্ধেক পেরিয়েও এর অধিকাংশই অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।

advertisement

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়নের পরপর ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে ২৪টি উপকমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর একটি ছিল শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য। ২০১৬ সালে শিক্ষা আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতে ‘ছায়া শিক্ষার’ নামে কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তাতে সহায়ক বা অনুশীলন বই প্রকাশেরও সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে তখন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে খসড়াটি পর্যালোচনার জন্য ফেরত আনে মন্ত্রণালয়। এরপর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে খসড়াটি চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয়। সাবেক একজন সচিবকে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয় পর্যালোচনার জন্য। কিন্তু এখনো আইনটি চূড়ান্ত করা গেল না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে তারা শিক্ষা আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন গত জুলাইয়ে। এখনো তা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়নি।

এদিকে, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর আগে জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এডুকেশন ওয়াচের চেয়ারপারসন কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা আইন হওয়া উচিত। না হলে শিক্ষানীতির আলোকে অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে শিক্ষা আইনের নতুন খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর আগে আবারও সেটি জনগণকে জানানোর জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হোক। আর সেটি একেবারেই সম্ভব না হলে জাতীয় সংসদে পাঠানোর আগে হলেও যেন সেটি জনগণকে জানানো হয়।

শিক্ষানীতির অনেক কিছু বিশেষ করে শিক্ষা আইন না হওয়ায় অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেন কাজী খলীকুজ্জমান। তিনি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, ১২ বছর ধরে শিক্ষা আইন নিয়ে কাজ হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একটি আইন করতে যদি ১২ বছর লাগে বা ১২ বছরেও না হয়, তা হলে যারা এটি বাস্তবায়ন করেন, তাদের বিষয়ে বড় প্রশ্ন আছে।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার অগ্রগতি ঝুলে আছে কয়েকটি বৈঠক পর্যন্তই। অসন্তোষ রয়েই গেছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়ে। পঞ্চম শ্রেণির এ সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি।

শিক্ষা নীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতায় পড়েছে দুই মন্ত্রণালয়। দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা।

জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ঝুলেই গেছে শিক্ষক নিয়োগে বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের প্রক্রিয়া। কমিশন গঠনের কাজ আগানোর পরিবর্তে এখন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে যে প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হচ্ছে তা নিয়েও বেধেছে জটিলতা। এ বিষয়ে শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শেখ ইকরামূল কবির বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে সবার আগে দরকার দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক। দরকার স্বচ্ছ নিয়োগ। এ জন্য শিক্ষানীতিতেই বলা হয়েছিল, শিক্ষক নিয়োগে হবে আলাদা কর্মকমিশন। যে কমিশন গঠনের পরই এনটিআরসিএ বিলুপ্ত করতে হবে। কিন্তু কমিশন তো হয়নি।

 

 

advertisement