advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বলাৎকারের শোধ নিতেই দোকানিকে খুন করে যুবক

চট্টগ্রাম ব্যুরো
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০১:১৬ এএম
advertisement

বলাৎকারে ক্ষুব্ধ হয়ে এক দোকানিকে খুন করছে যুবক। ওই ঘটনায় গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা এলাকার পথকেনগর গোয়েন্দা পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম মোহাম্মদ আদনান জিসান (২০)। সে নগরীর হালিশহর থানার সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা। গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশের বৈলতলী এলাকায়। আর নিহতের নাম মো. শাহাদাত হোসেন (২৪)। তিনি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ চরমুজিব গ্রামের বাসিন্দা।

advertisement

২০২১ সালের ১ আগস্ট চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া এলাকার একটি মার্কেটের

advertisement 4

টয়লেট থেকে শাহাদাত হোসেনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের বাবা ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পর হত্যার তদন্ত করতে মাঠে নামে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে জিসানের সঙ্গে পরিচয় হয় মুদির দোকানদার শাহাদাত হোসেনের। এর পর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। একদিন রাতে বাসায় ঢুকতে না পেরে শাহাদাতের বাসায় থেকে যান জিসান। ওইরাতে জিসানকে বলাৎকার করতে চান শাহাদাত; কিন্তু সেবার ব্যর্থ হন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দোকানের মালামাল চুরির মামলার ভয় দেখিয়ে শাহাদাত কয়েকবার বলাৎকার করেন জিসানকে। এভাবে অতিষ্ঠ হয়ে শাহাদাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জিসান। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরেকবার বলাৎকার করতে গেলে শাহাদাতকে খুন করেন জিসান।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম) মুহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, জিসানকে বলাৎকার করা নেশায় পরিণত হয় শাহাদাতের। ২০২১ সালের ৩১ জুলাই রাত দেড়টার দিকে শাহাদাতকে ফোন করে তার বাসায় যান জিসান। শাহাদাত মুদিদোকান বন্ধ করে জিসানকে দোকানের পেছনে বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে আলো বন্ধ করে দিয়ে জিসানকে বলাৎকার করতে যান তিনি। এ সময় জিসান পকেট থেকে ছুরি বের করে শাহাদাতের পেটে তিনবার এবং পায়ে ও হাতে একবার করে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় শাহাদাত চিৎকার করে উঠলে আসামি তার গলা চেপে ধরে। শাহাদাতের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জিসান ঘটনাস্থলে অন্তত আট মিনিট অবস্থান করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে জিসান বোনের বাড়িতে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্ত কাজে শুরুতে হত্যাকা-ের কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল কললিস্ট দেখে জিসানকে শনাক্ত করা হয়। এর পর জিসানের মোবাইলের অবস্থান নিশ্চিয় হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিসান হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে।

advertisement