advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ মাসে নিহত ৪১৬৬ জন
প্রতিরোধে দৃঢ় পদক্ষেপ জরুরি

৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০২:৪৬ এএম
advertisement

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মতো ভয়ানক পরিস্থিতি যখন কোনোভাবেই রোধ হচ্ছে না, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতাকেই নির্দেশ করে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই অকালে ঝরে যাচ্ছে একের পর এক মূল্যবান প্রাণ। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ১৬৬ জন নিহত হয়েছেন। তা কারও কাম্য হতে পারে না। দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য মতে, গত মাসে ৭৩৯ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সংগঠনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে দেশে ৬৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ২ হাজার ৪২ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০৯ শিশু ও ১০৫ নারী রয়েছেন। গত মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৫১ ও শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ১০৪ জন। শুধু রাজধানীতে জুলাইয়ে ৪১টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নৌদুর্ঘটনায় ১৮ ও রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪১ নিহত হয়েছেন গত মাসে।

advertisement

জুলাই মাসে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো ঈদ। এই সময় সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে যায়। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচল সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সড়ক আইন বা নজরদারি বলতে এখন আর কিছু দেখা যায় না। এর পাশাপাশি মানুষের মধ্যে অস্থিরতাও বেড়েছে। এভাবে আর কতদিন চলবে! এ থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশে সড়ক-মহাসড়কের বিশৃঙ্খলা দেখলে মনে হবে না, এখানে কোনো আইন আছে। কিন্তু আমরা জানি, দেশে আইন আছে। এর পরও কেন এত বিশৃঙ্খলা, এ কারণটিও জানি। আইন যদি প্রয়োগ না হয়, তা হলে ওই আইন অর্থহীন।

advertisement 4

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ভুয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমতে পারে। অথচ এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেই। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত- সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা। সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেষ্ট হতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব সচেতনতাতেই।

advertisement