advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নার্সের মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

চাঁদপুর ও হাইমচর প্রতিনিধি
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০৯:৫২ এএম
advertisement

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে এক নার্স ও তার মেয়েকে যৌন হয়ারানি এবং নার্সদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ আগস্ট ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সিনিয়র নার্স ও সহকারী আরেক নার্সের মেয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন বরাবর এ ব্যাপারে অভিযোগ দেন।

advertisement

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী সিনিয়র নার্সের মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী। তার সঙ্গে হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের পরিচয় হওয়ার পর তার ফোন নম্বর চান। মেয়েটি নম্বর দিতে নারাজ হলে এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা জোরপূর্বক তার মোবাইল নম্বর নেন। এর পর থেকে তিনি মেয়েটির হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে ফোন দিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। অসংখ্যবার ভিডিও কল দিয়ে নগ্ন অবস্থায় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং মেয়েটিকে নগ্ন হতে বলেন। এমনকি ভিডিও সেক্স করতেও বলেন তিনি। এতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কর্মকর্তা মেয়েটিকে তার বাসায় যেতে বলেন। তাতেও রাজি না হওয়ায় ওই কর্মকর্তা মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে বলেন, ডাকে সাড়া না দিলে তার মাকে অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হবে। ওই ঘটনার পর থেকে মেয়েটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগকারী নার্স ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

advertisement 4

আরেক সিনিয়র নার্স সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগে বলেন, ২০১৬ সালে নিয়োগ পান তিনি। ফাইজার ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে সরকার ৮ নার্সকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রদান করেন; কিন্তু ডা. বেলায়েত নার্সদের ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকিটা অফিসখরচ বাবদ কেটে রাখেন। এ ছাড়া ডা. বেলায়েত প্রায়ই ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে বিব্রত করেন। অফিস অথবা ওয়ার্ডের কাজে বা তার অফিসে গেলে তার আপত্তিকর কথাবার্তা শুনতে হয়। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সরা তার অফিস রুমে যেতে ভয় পান। এসব কারণে নার্সরা হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। এ বিষয়ে ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি আমি জানি না। কিছুক্ষণ আগে সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছুই বলেনি। তবে হাসপাতালে এ ধরনের কোনো কর্মকা-ে আমি জড়িত নই।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, আমার দপ্তরে হাইমচর থেকে দুটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় সে বিষয়ে আমরা অপেক্ষায় আছি।

advertisement