advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব : স্বাধীন বাংলাদেশের মমতায় সজীব

অধ্যাপক ড. প্রতিভা রানী কর্মকার
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:১৪ পিএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ১২:৪৮ পিএম
advertisement

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের বীজ বপন করে বহু পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে বৃক্ষে রূপান্তর করে যিনি সোনার ফসল ফলিয়েছিলেন, কাল পরিক্রমায় যিনি বাংলার রাজনৈতিক গগনে ধ্রুব নক্ষত্রের মতো চিরস্থায়ী আসন লাভ করেন, স্বাধীন বাংলাদেশের সেই স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী ও সহযোদ্ধা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বাঙালি জাতির চিরস্মরণীয় একটি নাম। স্বাধীন বাঙালি জাতি হিসেবে আজ আমরা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে চলতে পারছি, দৃপ্ত কণ্ঠে আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার কথা বলতে পারছি- এর মূলেও রয়েছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

বঙ্গমাতা ছিলেন শান্ত ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ। সুচারুরূপে গৃহপরিচালনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে তিনি অসামান্য মেধা ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছেন। বঙ্গমাতা সেদিন আইয়ুব খানের রাজনৈতিক চক্রান্ত আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তো আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতার একটা বড় অংশ যখন বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি নিয়ে রাওয়ালপিণ্ডিতে যাওয়া উচিত মনে করেছিলেন, তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন : সম্পূর্ণ নির্দোষ অবস্থায় মুক্তি না দিলে বঙ্গবন্ধু আইয়ুবের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাবেন না। ফলে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে সম্পূর্ণ নির্দোষ মেনে নিয়ে প্যারোল ছাড়াই মুক্তি দিতে সম্পূর্ণ বাধ্য হয়েছিলেন।

advertisement 3

আসলে বঙ্গমাতা মনে করতেন, ব্যক্তির চাইতে দেশ বড়, দেশের মানুষের সম্মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ওরফে রেণু ছিলেন প্রচলিত অর্থে শিশুকাল থেকেই এতিম। মা-বাবা বলতে পেয়েছেন শাশুড়ি আর শ্বশুরের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর জীবনে কঠিন পথে চলার অসীম শক্তি। সারাজীবন বাংলার মাটি ও মানুষকে নিজের আত্মার আত্মীয় মনে করেছেন। আপনজনদের মৃত্যু, রাজনৈতিক কাজকর্ম নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ততায় বঙ্গবন্ধুর এ জেলা থেকে সে জেলা ছুটে বেড়ানো, জীবনের বেশির ভাগ সময় বঙ্গবন্ধুর জেলে বন্দী থাকা, বিপদ ও কষ্টের সময় অনেক চেনা রাজনৈতিক বন্ধুদের পিছুটান সত্ত্বেও সবাইকে পরম মমতায় আগলে রাখা, উৎসাহ দেওয়া, যুদ্ধবিধস্ত একটি দেশে গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধুর অমানুষিক পরিশ্রম ও সংগ্রামে সর্বদা তার পাশে থাকার নাম বঙ্গমাতা। সারাজীবন যা কিছু কষ্টের সেটা তিনি নিজের করে নিয়েছেন, যা কিছু আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য, প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন তিনি দেশমাতৃকাকে দিয়েছেন। তাই তো তিনি আমাদের মা, বাংলার প্রিয় মুখ, প্রিয় জননী। তিনি রবীন্দ্র রচনাবলি, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত গ্রন্থাবলি, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন লেখকের লেখা নিজ সংগ্রহে রাখতেন। জেলখানায় বসে বঙ্গবন্ধুকেও লিখতে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

advertisement 4

বঙ্গমাতা শান্ত, স্থির, অত্যন্ত পরিপাটি, গোছানো একজন মানুষ ছিলেন। শত বিপদেও মনোবল হারাননি। কত কষ্ট নিয়ে বঙ্গমাতা সেদিন নরপশুদের গুলি বুকে পেতে নিয়েছিলেন! সেদিন সেই শেষ যাত্রায়ও তিনি হয়তো স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন। তার আদর্শকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিরলস প্রচেষ্ঠায় ও আন্তরিক ভালোবাসায় বাংলাদেশের উন্নতি ও সম্মান সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি উন্নয়নে আর আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মমতায় বঙ্গমাতা চিরকাল সজীব থাকবেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে তাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

অধ্যাপক ড. প্রতিভা রানী কর্মকার : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক (ইংরেজি) এবং বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষক

advertisement