advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর
কূটনীতিতে বিচক্ষণ ও দূরদর্শিতা বাড়াতে হবে

৯ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২২ ০১:২৬ এএম
advertisement

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তড়িঘড়ি করে চব্বিশ ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন। তাকে আশ্বস্ত করে বাংলাদেশ এক চীননীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। গণচীন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের বাণিজ্য ও উন্নয়নের অংশীদার। সে কারণে উভয়ের দিক থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ রয়েছে। তবে বাংলাদেশকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গেও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সব পক্ষের সঙ্গেই মৈত্রী সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে বাংলাদেশ। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর চীনের উদ্বেগের কারণ হয়েছে। চীন মনে করছে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে যেভাবে চাপে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ঠিক একইভাবে চীনকেও প্রত্যক্ষ বৈরিতার ফাঁদে ফেলে চাপ বাড়াতে চায় তারা। ফলে চীন একই সঙ্গে তাইওয়ানের আশপাশে সমুদ্রে সামরিক মহড়া দিয়েছে এবং বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর প্রয়াস চালাচ্ছে। এরই অংশ চীনা হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত বাংলাদেশ সফর।

advertisement 3

বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন মেগা প্রকল্পে চীন সবচেয়ে বেশি অর্থের জোগান দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এ রকম এক প্রেক্ষাপটে প্রায় একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বাংলাদেশ সফর করেছেন। বোঝা যায় তারাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশকে পাশে পেতে চায়। বিশ্ব পরিস্থিতিতে যেভাবে অতীতের ¯œায়ুযুদ্ধের আদলে দুটি শিবির তৈরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশের জন্য ভারসাম্যের নীতি রক্ষা করে সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা সহজ হবে না। ফলে ভবিষ্যতের দিনগুলোতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার দাবি রাখে।

advertisement 4

এই সুবাদে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে। চীন তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতি দিতে কার্পণ্য করেনি। তবে আমরা জানি সমস্যা সমাধানে অতীতে চীনের প্রদত্ত কোনো প্রতিশ্রুতিই গত চার বছরেও পূরণ হয়নি। চীন একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলতে চায়। অথচ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিবদমান দুটি পক্ষকেই সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের মনে হয় এই ব্যাপারে কেবল চীনের ওপর নির্ভর করে না থেকে আমাদের জাতিসংঘ ও পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তা নিতে হবে। আমরা বর্তমানে এক জটিল বিশ্বব্যবস্থায় রয়েছি। এর ওপর সৃষ্টি হয়েছে স্মরণকালের তীব্রতম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট। তাই আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গেই নেতৃত্বকে কঠিন বাস্তবতা পাড়ি দিতে হবে এবং সেখানে চীন যেমন আমাদের বন্ধু হিসেবে থাকবে তেমনি ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বন্ধুত্বও সমভাবেই কাম্য।

advertisement