advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ক্রীড়ায় পেছাচ্ছি আমরা
এখনই যথাযথ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই

১১ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২২ ০১:১৬ এএম
advertisement

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এবারের কমনওয়েলথ গেমস থেকে বাংলাদেশ দল শূন্যহাতে ফিরেছে। সাধারণত এ গেমসে বাংলাদেশ দুই-একটি পদক পেয়ে থাকে। তবে ওই পদক আসত প্রধানত শুটিং ও আর্চারি থেকে। কিন্তু এবারের আয়োজনে এ দুটি খেলাতেই বাদ ছিল। এতেই বাংলাদেশের শূন্যহাতে ফেরার দুর্ভাগ্য। তবে এ কথাও বলতে হবে, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও খেলাধুলায় আমাদের উল্লেখ করার মতো উন্নতি হয়নি। প্রতিবারই বলা হয়ে থাকে, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হচ্ছে। তাই ক্রীড়ামোদী মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, আর কতকাল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় চলবে। কবে আমরা ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের মতো খেলাধুলার আসল ইভেন্ট থেকে পুরস্কারের খবর পাব। আদতে সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে আমাদের উন্নতি হচ্ছে না। অনেক ক্রীড়াবিদই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান না। ফলে অনেকটা বিনা প্রস্তুতিতেই তাদের বড় আসরে নামতে হয়। এ কারণে ফলও আশানুরূপ হয় না।

advertisement 3

এতকাল ক্রিকেট ছিল খেলাধুলায় আমাদের আশা-ভরসার প্রতীক। এ খেলাতেই বিশ্বমানের দলের সঙ্গে আমরা সমানতালে পাল্লা দিতে পারি। অনেক সময় সেরা দলকেও হারিয়ে দিতে সক্ষম। কিন্তু ইদানীং ক্রিকেটেও যেন দুর্ভাগ্যের ছোঁয়া লেগেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ধবল ধোলাই হলেও ওয়ানডে সিরিজ জিতে কোনোমতে মান রক্ষা হয়েছিল। তবে কাগজ-কলমে দুর্বলতর দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি হারার পর ওয়ানডেতেও সিরিজ পরাজয় মানতে হয়েছে। অন্যদল যখন এগোচ্ছে, তখন আমরা পিছিয়ে পড়ছি। বিসিবি দেশের সবচেয়ে বিত্তবান ক্রীড়া সংস্থা, খেলোয়াড়রাও উচ্চহারে সম্মানী পান। অথচ ধারাবাহিকতার জন্য যে ধরনের ঘরোয়া কাঠামো, টুর্নামেন্ট, প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি খেলোয়াড়ি মানসিকতা প্রয়োজন- এর অভাব দেখা যায় সর্বত্র। ফলে ক্রিকেটেও উন্নতির পরিবর্তে অধঃগতি আমাদের দেখতে হচ্ছে।

advertisement 4

দেখা যাচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা করে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা হলে এর ফল পাওয়া যায়। প্রতিবেশী ভারত এর দৃষ্টান্ত। তারা এখন বিভিন্ন ক্রীড়ায় উন্নতির পাশাপাশি ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডেও পদকের জন্য লড়তে পারেন। পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বাংলা, ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যের খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক আসর থেকে স্বর্ণপদক অর্জন করছেন। অন্তত তাদের সঙ্গে আমাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক সামর্থ্যে পার্থক্য থাকার কথা নয়। এতেই বোঝা যায়, পরিকল্পনা ও সঠিক পরিচর্যার ভূমিকা কতটা হতে পারে! আমরা মনে করি, বিসিবিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। একই সঙ্গে দেশে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়ায় উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা জরুরি। এ খাতে বাজেট বরাদ্দও বৃদ্ধি করতে হবে। সুযোগ-সুবিধা কেবল রাজধানীতে কেন্দ্রীভূত না রেখে দেশের সব জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। কেবল বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে যোগ্য খেলোয়াড় বাছাই ও তৈরির জন্য জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কাঠামো দাঁড় করাতে হবে। এ ছাড়া কিশোর বয়স থেকে খেলাধুলায় ছেলেমেয়েদের উৎসাহী করে তোলা দরকার। এতে যেমন সুস্থ জাতি গঠন নিশ্চিত হবে, তেমনি কিশোর বয়স থেকে বিপথগামিতায় পথ হারানো বন্ধ হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই পথে চলে সাফল্য অর্জন করেছে। আর সময়ক্ষেপণ না করে খেলাধুলা ও জাতিগত স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এখনই সরকারের উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

advertisement