advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:৪০ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

কোভিড মহামারী এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার অভিঘাতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় এমনিতেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা আর্থিকভাবে প্রবল চাপে ছিলেন। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল, আটাসহ নানা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ বেড়েছিল বহুগুণ। সম্প্রতি সরকার দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর পর চাল, ডিম, মুরগিসহ নানা খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাওয়ায় আক্ষরিক অর্থেই মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য খাদ্যের সংস্থান করাই কঠিন হয়ে গেছে। মধ্যবিত্তরা প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ডিম, দুধ ও মাংসের মতো খাদ্য বাজার তালিকা

থেকে বাদ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই দেশের জনগণের একটি বিরাট অংশ পুষ্টিহীনতার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

advertisement

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, সুস্থ থাকার প্রধান নিয়ামক সুষম খাবার। খাবারে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ পরিমাণমতো থাকলে তাকে সুষম খাবার বলা হয়। তবে খাবার শুধু সুষম হলেই চলবে না, খেতে হবে সময়মতো। অর্থাৎ দিনে তিন বেলা পরিমাণমতো খাবার খেতে হবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে কম করে হলেও একজন মানুষের ৬০-৭০ গ্রাম পরিমাণ প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, মাছ, ডিম, মটরশুটি ও লো-ফ্যাট দুধ জাতীয় খাবার খাওয়া আদর্শ। এ ছাড়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২৫০ গ্রাম ফল এবং ৩০০ গ্রাম দুধ খাওয়া প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন বলেন, শরীর বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ আমিষ ও ফল খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু এবং বেশি বয়সী মানুষের জন্য। তবে এসব খাদ্যের প্রতিটির দামই যদি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তা হলে দৈনন্দিন যে ক্যালরি প্রয়োজন সেটি পূরণ করা সম্ভব হবে না। শিশুদের সুষম খাদ্য দুধের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। তেলের দামও বাড়তি। এমনকি দরিদ্র মানুষের আমিষের প্রধানতম উৎস ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গরু ও খাসির মাংশের দাম আগেই ছিল সাধারণ ও নি¤œমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। প্র্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ভরসা ছিল ডিম ও ব্রয়লার মুরগি। বর্তমানে সেই ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামও চলে গেছে নাগালের বাইরে। এ ছাড়া দাম বেড়েছে চাল, ডালা, আটা, ময়দাÑ এমনকি সব ধরনের সবজি ও ফলমূলের। ফলে খেটে খাওয়া মানুষ ও নি¤œ মধ্যবিত্তের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়তে শুরু করেছে ডিম ও ফলমূল। এতে অচিরেই জাতির বৃহত্তর অংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগতে শুরু করবে। এতে কমতে থাকবে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ও কর্মক্ষমতা। ধীরে ধীরে এই জাতি একটা অসুস্থ, অপুষ্ট জাতিতে পরিণত হবে। তাই জাতিকে পুষ্টিহীনতা থেকে বাঁচাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ফলমূল ও সবজির দাম নাগলের মধ্যে রাখতে পরিবহন ব্যবস্থা টোল ফ্রি করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম সাধারণের নাগালে রাখতে শুল্ক প্রত্যাহার করা যেতে পারে পোলপ্রি ফিড থেকে।

advertisement 4

 

advertisement