advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বেকার তরুণদের একজন অভিভাবক দরকার

জাকির হোসেন তমাল
১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৪৮ পিএম | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০২:৫৫ পিএম
চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলন করা তরুণ-তরুণীদের গতকাল শাহবাগে লাঠিপেটা করে পুলিশ
advertisement

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ নিয়ে জীবনের নতুন একটি সংকটে পড়তে হচ্ছে দেশের তরুণ-তরুণীদের। এই সংকটটি বেকারত্ব। কারণ, শ্রেণিকক্ষে তারা যা শিখছেন, চাকরির বাজারে তার খুব একটা প্রয়োগ হচ্ছে না। সোজা কথায় তা দিয়ে চাকরি মিলছে না।

চাকরির বাজারে টিকতে তরুণদের ভিন্ন প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে শেখানো জ্ঞান দূরে রেখে অনেক শিক্ষার্থীকে চাকরিযোগ্য করে তোলে-এমন বইয়ের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এই প্রস্তুতি নিতে তাদের অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। এতে করে জীবনে নতুন এক সংকটে পড়তে হচ্ছে দেশের তরুণদের।

advertisement 3

এই সংকটে থাকা দেশের বেকার তরুণদের সংখ্যাটা মোটেও কম নয়। ‘বিশ্বজুড়ে তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রবণতা ২০২২’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশি তরুণদের বেকারত্বের হার ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, যদিও জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্বের হার মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

advertisement 4

সংস্থাটির তথ্যানুসারে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের জন্য শ্রমবাজার আরও কঠিন হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছেন। (সূত্র: প্রথম আলো অনলাইন, ১২ আগস্ট ২০২২)

বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের, সমাজের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাকি শিক্ষার্থীর? এই প্রশ্নটির উত্তর হয়তো সংকটের অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটি কার কাছে করবেন, এর উত্তর দিতে হয়তো অনেকেই প্রস্তুত নন। কেননা, সবাই শুধু সাফল্য খোঁজে। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে যে বিশাল এক অন্ধকারের সারি, সেটা নিয়ে কেউ ভাবতে চায় না। নিজের ভাবনাটা তাই তরুণদের নিজেদেরই ভাবতে হয়।

ওই ভাবনা থেকেই তরুণরা চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে হয়তো নেমেছিলেন। ২০১৮ সালের সেই আন্দোলন দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু তার সুফল কতটা মিলেছে, তার উত্তর আমাদের কাছে নেই। এত বড় একটা আন্দোলনের পরও বেকার তরুণদের কষ্টের কথা বলার যেন লোক নেই। তাদের দীর্ঘশ্বাস শোনার কেউ নেই।

‘চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা’ লিখে গুগলে খোঁজ করুন, অনেক খবরের লিংক সামনে আসবে। আপনি কোনটা রেখে, কোনটা নিয়ে আলোচনা করবেন। একজন সনদধারী বেকার তরুণের আত্মহত্যার দায় অবশ্যই সমাজ-রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না। এর দায় শিক্ষকদের যেমন, তেমন রাজনীতিবিদেরও।

গরিব একটা পরিবার অনেক কষ্ট করে তাদের সন্তানকে পড়াশোনা করায়, যাতে আগামী দিনে সেই সন্তান জীবিকা অর্জন করে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে সেই তরুণ যখন চাকরি পাচ্ছেন না, তখন তার জীবন যেন বিভীষিকায় ভরে উঠছে। তার জীবনের কষ্টের গল্প শুধু তারই জানা। তার প্রতিটা দিন কীভাবে কাটে, সেই গল্প সামনে এলে সমাজ সেই ভার হয়তো নিতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা এমন অনেক বেকার তরুণের কথা আমি জানি। সেই জায়গা থেকেই এমনটা বলছি।

করোনা মহামারী শুরুর পর বিশ্বজুড়ে চাকরি হারাতে থাকে মানুষ। এই ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তরুণসমাজ। দেশের এই সংকট কাটিয়ে ওঠার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এতে করে সনদধারী বেকারের সংখ্যা দেশে দিন দিন বাড়ছেই। করোনা শুরুর আগেই থেকে দেশে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা হয়ে সামনে এসেছে। করোনার অভিঘাতে শ্রমবাজার কমেছে, অনেকে চাকরি হারিয়েছে। একই সময়ে নতুন নতুন বেকার তৈরি হয়েছে। সনদধারী এই বেকার তরুণদের নিয়ে সমাজপতিদের এখন অবশ্যই ভাবতে হবে।

চাকরিপ্রত্যাশীদের পিটিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে সেই আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীরা বলছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। আটক করেছে।

চাকরিপ্রত্যাশী এই তরুণদের কথা অবশ্যই সমাজ-রাষ্ট্রকে শুনতে হবে। তাদেরকে পিটিয়ে আন্দোলন থেকে হটিয়ে দিলেই সংকট কাটবে না। উল্টো এই সংকট আরও বাড়বে। কীভাবে এই সংকট থেকে উত্তরণ করা যায়, তা সব শ্রেণিকেই ভাবতে হবে। সেই ভাবনা তুল ধরার জন্য একজন অভিভাবক খুব প্রয়োজন। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতারা ছাত্রদের কল্যাণে খুব একটা কাজ করেন বলে চোখে পড়ে না। তাই তাদের বাইরে এমন একজন নেতা দরকার, যিনি আগামীতে তরুণদের নেতৃত্ব দেবেন, সামনে দিনে সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবেন। এমন অভিভাবক একদিন আমরা পাব, সেই প্রত্যাশা।

জাকির হোসেন তমাল: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, দৈনিক আমাদের সময়

advertisement