advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবার চাকরিতে বয়স-ছাড়

এম এইচ রবিন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:১০ পিএম
advertisement

করোনা মহামারীতে প্রায় তিন বছর স্বাভাবিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় জনবল সংকট। সরকারি দপ্তরগুলোয় দুই দফায় বয়সে ছাড়া দিয়ে নিয়োগের নির্দেশনা দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে সামগ্রিকভাবে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার যে দাবি, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। ফলে বিসিএস বাদ দিয়ে অন্যান্য চাকরিতে এভাবে বারবার বিশেষ আদেশে বয়স ছাড়ে খুশি নন চাকরি প্রত্যাশীরা।

advertisement 3

গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় নতুন করে সরকারি চাকরির বয়সে ছাড় দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ‘যেসব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীনে থাকা অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর এবং সংবিধিবদ্ধ/স্বায়ত্তশাসিত/জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ক্যাটাগরির সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি, সেসব দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত

advertisement 4

প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সর্বোচ্চ বয়সসীমার মধ্যে থাকলে ওই প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।’ অর্থাৎ সরকারি সব চাকরির (বিসিএস ছাড়া) ক্ষেত্রে প্রার্থীরা বয়সসীমায় সর্বোচ্চ ৩৯ মাস ছাড় পাবেন।

এর আগে মহামারীর কারণে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দুই দফায় বয়সে ছাড় দিয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত বছর ১৯ আগস্ট এক আদেশে ২১ মাস বয়সের ছাড় দেওয়া হয়। এর আগের বছর সাধারণ ছুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের পাঁচ মাস ছাড় দিয়েছিল সরকার। তবে বয়সের এ ছাড় বিসিএসের জন্য প্রযোজ্য হয়নি।

দফায় দফায় বিশেষ আদেশে চাকরিপ্রার্থীদের বয়স ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হলেও কেন সামগ্রিকভাবে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হয়নি, তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা অসন্তুষ্ট।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে গতকাল বিকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি। সাড়া মেলেনি হোয়্যাটস্অ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও।

বয়স ছাড়ের ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সৈকত নামের একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে আবেদন করার বয়সসীমা ৩৯ মাস বৃদ্ধি করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।’ তানিয়া আক্তার নামের এক চাকরিপ্রার্থী লিখেছেন, ‘চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ বছর করলে সকল চাকরিপ্রার্থী উপকৃত হতো।’

সামিয়া ইসলাম নামের একজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাকুরিপ্রার্থীদের ৩০ বছরের বয়সসীমা সংশোধন না করলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে?’ সুমন নামের একজন লিখেছেন, ‘চাকরির বয়সসীমা ৩৫ বছর করার ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকতে হবে।’

সরকারের ঘোষণা ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন লিখন রয় নামে এক চাকরিপ্রার্থী। তার মতে, ‘জীবন তো একটাই, এত নিয়ম কেন? বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ বছর করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক।’

বয়স ছাড়ের সুযোগ কেন বিসিএসে অংশগ্রহণকারীরা পাবে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ ব্যানারে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থী সাজেদুল ইসলাম। আমাদের সময়কে তিনি বলেন, ‘মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহামারীর কারণে বিশ্ববাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিগত প্রায় ২ বছর ধরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগ ও পূর্বের বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। এর ফলে চাকরিপ্রার্থীরা সময়মতো বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এতে বয়সসীমা স্বাভাবিকভাবে ৩০ বছর পার হয়ে গেছে। এখন একবারে সবার জন্য ৩৫ বছর করার উচিত।’

তাবাসসুম মৌরী নামের আরেক আন্দোলনকারী বলেন, ‘সরকারি বা বেসরকারি, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আমার শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ করলে আমরা উপকৃত হব। আর না হলে বেকারত্বের অন্ধকার জীবনে প্রবেশ করতে হবে।’

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫-এর দাবিতে আন্দোলনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও। কিন্তু কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়নি সরকার। কমিটির সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা সরকারকে সুপারিশ করেছিলাম, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করার জন্য। তবে এতে সরকার ইতিবাচক না থাকায় বিষয়টি আর সামনে আসেনি। সরকারের ইচ্ছা হলে যে কোনো সময় সুপারিশ আমলে নিতে পারে, নাও নিতে পারে।’

আন্দোলনকারীদের ৩৫ বছর করার যুক্তি

১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়। তার পর দীর্ঘ ১৮ বছরেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো হয়নি। ২১ বছর পর সরকার অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৫৯ করলেও প্রবেশের বয়স বাড়ায়নি। এখন প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৬ বছর করা হয়েছে। আগে যেখানে একজন ছাত্র ৪ থেকে ৫ বছর বয়সেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করতে পারত, এখন সেটা ১৬ বছরের আগে সম্ভব নয়। স্নাতক ও সম্মান উভয় ক্ষেত্রে লেখাপড়ার সময় এক বছর করে বাড়িয়ে যথাক্রমে তিন ও চার বছর করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় আছে সেশনজট। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে।

advertisement