advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিরোধে কমিটি গঠন, হটলাইন চালু
ফুটবলারদের লাগেজে চুরির দায় নিচ্ছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:১০ পিএম
advertisement

সাফজয়ী ফুটবলার কৃষ্ণা রানী সরকার ও শামসুন্নাহারের লাগেজ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা সমমানের ডলার চুরির ঘটনার দায় নিচ্ছে না কেউ। ইতোমধ্যে চুরির ঘটনায় মতিঝিল ও বিমানবন্দর থানায় দুটি জিডি করা হয়েছে বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তবে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে তারা চুরির ঘটনার সত্যতা পায়নি। ফুটবলারদের বহন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও এ চুরির ব্যাপারে কোনো দায় নিচ্ছে না। ভুক্তভোগী দুই নারী ফুটবলার অভিযোগ

advertisement 3

করেছেন, গত বুধবার নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাদের ডলার, পোশাক ও আরও কিছু জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। লাগেজের তালা ভেঙে ফুটবলার কৃষ্ণার ৯০০ ডলার এবং শামসুন্নাহারের ৪০০ ডলার নিয়ে গেছে চোরেরা। ফুটবল দলের সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে নামার পর জানতে পারি কৃষ্ণা, শামসুন্নাহারসহ আমাদের দলের ফিজিওর বেশ কিছু জিনিসপত্র খোয়া গেছে। টাকা-পয়সাও হারিয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বাফুফের নারী উইং চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণকে বিষয়টি জানিয়েছি।

advertisement 4

এ ব্যাপারে গতকাল মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘আমরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি। এ ছাড়া মতিঝিল থানা ও বিমানবন্দর থানায়ও জিডি করা হয়েছে। ছোট মেয়েদের জন্য এটি বড় অর্থই। এটি শেষ পর্যন্ত শনাক্ত না হলে আমরাই এই অর্থ মেয়েদের দেব।’ বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিভিল এভিয়েশন ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ছাড়া বাফুফে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজও দেখা হবে প্রয়োজনে।

বাফুফে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বুধবার বিমানবন্দরে ফুটবলাররা নামার পর চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরের ভেতরে তখন ছিল প্রচ- ভিড়। ইমিগ্রেশন শেষ করে ফুটবলারদের যে পথে আসার কথা ছিল, সেখানে ভিড় ছিল সাংবাদিকদের। ফুটবলাররা ছাদখোলা বাসে উঠলেও বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টের এক পাশে পড়ে ছিল সাবিনা, কৃষ্ণাদের লাগেজগুলো। সেখানে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা বলছিলেন, এই লাগেজগুলো কাদের, কেউ নিচ্ছে না কেন? এর পর বাফুফের পক্ষ থেকে মেয়েদের লাগেজগুলো সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বাফুফে ভবনে গিয়ে ফুটবলারদের কয়েকজন নিজেদের লাগেজের তালা ভাঙা পান।

তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান এ চুরির ঘটনার দায় নিচ্ছে না। গতকাল শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী বাংলাদেশ ফুটবল দল গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ২টা নাগাদ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৭২ ফ্লাইটে কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় অবতরণ করে। পরে বাফুফের প্রটোকল প্রতিনিধি ইমরান, মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল দলের দুজন নারী সদস্যের ব্যাগ (হোল্ড ব্যাগেজ) থেকে অর্থ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেছে। কিন্তু তাতে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। বাফুফের প্রটোকল প্রতিনিধি ও দুজন টিম অফিশিয়াল ফুটবলারদের লাগেজ ট্যাগ চেক করে সম্পূর্ণ অক্ষত এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘বাফুফে প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা লাগেজগুলো সঠিক অবস্থায় বুঝে নেন। সে সময় লাগেজ থেকে কোনো কিছু খোয়া যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাফুফের প্রতিনিধিরা লাগেজগুলো দুটি কাভার্ডভ্যানে নিয়ে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে চুরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

advertisement