advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়ায় ভীতিকর পরিবেশ

হামিদ উল্লাহ,চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
পুরোনো ছবি
advertisement

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আর অস্ত্রের মহড়ার মুখে দেশের কলেজগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কলেজ ছাত্রলীগের এক পক্ষের নেতৃত্বে থাকা নুর মোস্তফা টিনু কলেজের দায়িত্ব নিতে চান। তাই তার অনুসারীরা অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন কলেজ ক্যাম্পাসে। এতে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

২০১৯ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে নুর মোস্তফা টিনু কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকেই উপনির্বাচনে চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে জামিনে ছাড়া পান। এর পর চট্টগ্রাম কলেজে সংঘাত নতুন রূপ নেয়।

advertisement 3

তবে নুর মোস্তফা টিনু আমাদের সময়কে বলেন, সিনিয়র জুনিয়র ইস্যু নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। আমি ঠিক করে দিয়েছি। আমি সংঘাত চাইলে তাদের ঠিক করে দিতাম না। কলেজের দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিনিয়র নেতারা দায়িত্ব দিলে আমি নিতে রাজি আছি। তিনি বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ বলতে পারবে না আমি কারও কাছ থেকে এক কাপ চা খেয়েছি।

advertisement 4

সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আহত হন। ছাত্রলীগের কর্মীরা এক ছাত্রীর হাত ভেঙে দেন। ওইদিন এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার খবর নিতে আসা একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীও বহিরাগতদের হামলা থেকে রেহায় পাননি। সংঘর্ষে কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নাজমা বেগমের কক্ষটিও ভাঙচুর করেন কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় মামলা করেনি।

সংঘর্ষের পর সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের অন্য পক্ষকে মারামারির জন্য আহ্বান জানান। ছাত্রলীগ সম্পর্কেও তিনি কটূক্তি করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

সংঘর্ষের আহ্বান এবং টিনুর কাছ থেকে লোকজন ও অস্ত্র চাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ আমাদের সময়কে বলেন, কোন পরিস্থিতিতে এটা বলেছি সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। কলেজে গ-গোল হলে তো অনেক কথা বলতে হয়। সুভাষ মল্লিক সবুজ দাবি করেন, মারামারি যা-ই হোক আমার নেতার নির্দেশে এখন আমরা সমঝোতায় এসেছি। সামনে নির্বাচন। নেতা এসব আর না করতে বলেছেন।

তবে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীদের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, সমঝোতা আর হলো কই? আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেও তো এইচএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে আসা অর্ণব সাহা নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে তারা পিটিয়েছে।

স্কুলের গ-ি পার না হওয়া টিনু এক সময় সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী ছিলেন। ওই সময় তিনি স্থানীয় যুবকদের নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে বারবার আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রশিবিরের কাছ থেকে কর্তৃত্ব কেড়ে নেয় ছাত্রলীগ। এ সময় এ কলেজে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা আধিপত্য বিস্তার করেন। কিন্তু স্থানীয় হিসেবে পরিচিত নুর মোস্তফা টিনু বরাবরই কলেজে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় থাকেন। ফলে কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারী মাহমুদুল করিমকে সভাপতি করা হলে টিনুর অনুসারী সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগ কর্মীরা যত না মারামারিতে জড়িত, সংঘর্ষে তার চেয়ে বেশি প্রভাব রাখছে নুর মোস্তফা টিনুর চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাব বিস্তারের মোহ। টিনুর সঙ্গে থাকা স্থানীয় যুবকরা অনেকেই চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র নন। অছাত্রদের দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের মতো দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় কলেজকে নিয়ন্ত্রণ করার তৎপরতা নিয়ে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে টিনুর প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশাসনও চুপচাপ।

২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নুর মোস্তফা টিনু অবৈধ শটগানসহ র‌্যাবের হাতে আটক হন। সে সময় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব তাকে কিশোর গ্যাং লিডার বলে উল্লেখ করেছিল। ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জামানত হারিয়েও চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন টিনু। ২৯ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হন। তিনি এলাকায় যুবলীগ নেতা বলে দাবি করলেও নগর যুবলীগের কোনো পদে তার নাম নেই।

advertisement