advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজবাড়ীর শহররক্ষা বাঁধের তীররক্ষা ব্লকে ধস

সোহেল রানা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৯ পিএম
advertisement

‘কয়েকদিন ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ফসলি চার-পাঁচ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলাম। নদীভাঙনরোধে আগে থেকে পদক্ষেপ নিলে আমাদের খুব ভালো হতো। আসলে পদ্মায় যখন ভাঙন শুরু হয়, তখনই বালুর বস্তা ফেলা হয়। শুষ্ক মৌসুমে নিচ থেকে যদি বালুর বস্তা ফেলা হয়, তা হলে আর ভাঙনের মুখে পড়ে না। আর এখন তীব্র স্রোতের কারণে ওপরে বস্তা ফেলছে আর নিচ থেকে ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। এভাবে আর কতকাল চলবে। আমরা নদীভাঙন এলাকার মানুষ সঠিকভাবে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।’ এভাবেই গতকাল অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন পদ্মাপারের আনোয়ার, সুজন, আকমল প্রমুখ।

advertisement 3

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করা ও তীব্র স্রোতের কারণে দেখা দিয়েছে ভাঙন। জেলা সদরের বড় চর বেনীনগর গ্রাম এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের পদ্মার তীররক্ষা ব্লক ধসে গেছে। ওইসব এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনরোধে পাউবোর উদ্যোগে শুধু বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ।

advertisement 4

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে তীর সংরক্ষণের জন্য ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্যাকেজ প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ছয়টি। বড় প্যাকেজের আওতায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় পদ্মার তীর সংরক্ষণ ও খনন করা হয়। কাজের ব্যয় ৩০৪ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। তবে কাজটি ক্রয় করে মেসার্স দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) কাজ করে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কাজ ২০২০ সালে সম্পন্ন করার কথা ছিল। পরে কয়েক দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। গোদার বাজার এলাকায় দেড় কিলোমিটার এলাকা সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ব্যয় ধরা হয় ৭২ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৩১ মে ৫টি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের জুনে কাজ বুঝে নেয় পাউবো।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন

দেখা যায়, রাজবাড়ী উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনীনগর গ্রামের তীররক্ষা প্রকল্পের ব্লক ধসে গেছে। একটি রাস্তার কিছু অংশ চলে গেছে নদীতে। ব্লকের পশ্চিম দিকে বালুর টিউব ব্যাগ ফেলা হয়েছে। নতুন করে বালু আনা হচ্ছে। কয়েক শ্রমিক বস্তায় বালু তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়াও কাকিলাদাইর, মহাদেবপুর গ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল আমীন বলেন, চলতি বছরের জুন মাসে নদীর তীররক্ষায় একটি বড় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা নদীর পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ার কারণে অসংখ্য ডুবোচর ও কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে; চলমান রয়েছে ভাঙন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলার কাজ।

advertisement