advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শাহজালালে লাগেজ চুরি
যাত্রীসেবা ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এর সমাধান চাই

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:০৪ পিএম
advertisement

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ চুরির ঘটনা নতুন নয়। আমাদের সময়ের এ সংক্রান্ত খবরের শিরোনাম করা হয়েছে ‘শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ চুরির মচ্ছব’। অর্থাৎ এত বেশি চুরির ঘটনা ঘটছে যে, একে চুরির মহোৎসব আখ্যা দেওয়া যায়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় ২০৯৪টি ফ্লাইট অবতরণ করে। এসব ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৮ জন। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার যাত্রীর লাগেজ দেশে আনেনি এয়ারলাইনগুলো। যাত্রীদের লাগেজ ফেলে আসার ঘটনা ক্রমাগতই বাড়ছে। অথচ এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দিতে পারে না। ব্যাগ কাটা কিংবা তালা ঠিক রেখে ভেতরের মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে এ রকম ঘটনা ঘটছে। বেশি অভিযোগ আসে সালাম এয়ার ও ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আরও আছে জাজিরা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ার, গালফ এয়ার ও কুয়েত এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানিয়েও সব সময় সুরাহা মেলে না।

advertisement 3

লাগেজ চুরির ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তারা সম্পূর্ণ বিমানবন্দরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা বলেন। তাদের অভিমত হলো শাহজালালে কোনোরকম অনিয়মের সুযোগ নেই। অর্থাৎ অনিয়মের ইঙ্গিতটা হলো সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের প্রতি। ঢাকা বিমানবন্দরে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া সব এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুটির এ সংক্রান্ত বিভাগের হটলাইনও দেওয়া আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলোর মাধ্যমে ভুক্তভোগী যাত্রীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় সুষ্ঠু সমাধান মেলা খুব কঠিন এবং হারানো সামগ্রীর জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

advertisement 4

মোট কথা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার যে অভাব রয়েছে তা বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না।

এসব ঘটনা নতুন করে খবরের কাগজে এসেছে মূলত সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের দুই সদস্যের লাগেজ থেকে ডলার ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে। এ পর্যন্ত সব মহলে খোঁজাখুঁজির পরও এই চুরির কোনো সুরাহা করা যায়নি। বিজয়ী এ দলের প্রতি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সব রকম সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও তারাও ভোগান্তি এড়াতে পারেনি। তাতে বোঝা যায় সাধারণ যাত্রীরা সংঘবদ্ধ লাগেজ চোরদের হাতে কতটা অসহায়। বহুকাল ধরেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘবদ্ধ লাগেজ পার্টির অস্তিত্বের কথা শুনে আসছে জনগণ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বহু খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। অতীতে কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পর্কেও এতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এত বছরেও দেশের প্রধান বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হয়নি। আমরা মনে করি বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণের আগেই যাত্রী ও তাদের মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। নয়তো বড় পরিসরে যেমন চুরির বহর বাড়বে, তেমনি ভাবমূর্তির সংকটও গভীর হবে।

advertisement