advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় খুন হয় সিয়াম

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

তিতাস উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে প্রকাশ্যে কিশোর সিয়াম সরকারকে (১৭) হত্যার ঘটনায় আটজনের নামে মামলা হয়েছে। সিয়ামের বাবা তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের চরমোহনপুর গ্রামের হেলাল সরকার ওরফে বাকের বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই মামলা করেন।

advertisement 3

পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল দুপুরে কুমিল্লার আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়। আসামিদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। অপর চারজন ১৮ বছরের নিচে। তারা মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নয়াগাঁও

advertisement 4

আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অকপটে হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছোরা ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, সিয়াম সরকার মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। তার বাড়ি তিতাস উপজেলার চরমোহনপুর গ্রামে। সিয়ামের এক চাচাতো বোনকে পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নয়াগাঁও আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী নাজমুল হাসান (১৯) উত্ত্যক্ত করতেন। এ নিয়ে সিয়ামের সঙ্গে ২০ দিন আগে নাজমুলের ঝগড়া হয়। তাদের মধ্যে মুঠোফোনেও কথা-কাটাকাটি হয়। এরই মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর দাখিল পরীক্ষা উপলক্ষে নাজমুলসহ তার আট বন্ধু গাজীপুর এলাকায় নাছির উদ্দিনের বাড়ি ভাড়া নেন। তারা পরীক্ষা উপলক্ষে ওই বাড়িতে থাকেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষ হয় বেলা একটায়। এর ১০ মিনিট পর সিয়াম মাদ্রাসার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময়ে নাজমুলকে দেখতে পেয়ে বলেন, ‘তুই আমার বোনকে ডিস্টার্ব করছ কেন?’ এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। তখন সিয়াম নাজমুলকে চড় দেন। একপর্যায়ে নাজমুলের অপর সহপাঠীরা এসে সিয়ামকে আটকিয়ে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। এরপর নাজমুলের এক সহপাঠী ভাড়া বাসায় গিয়ে ছুরি এনে সিয়ামের তলপেটে দুটি আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সিয়াম মারা যান।

ওসি বলেন, ঘটনার পর পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে চারজনের বয়স ১৯ বছর। তারা হলেন- নাজমুল হাসান, সাকিব হোসেন, মাসুমবিল্লাহ ও সায়মন মিয়া। অপর চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করে।

advertisement