advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল স্বামীর লাশ, মেঝেতে পড়ে ছিলেন স্ত্রী

সৌদি আরব প্রতিনিধি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৫:১৯ পিএম | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:৩৯ পিএম
সৌদি প্রবাসী নোমান ও স্ত্রী শামীমা। পুরোনো ছবি
advertisement

মাত্র ১৬ দিন আগেই দেশে ফেরেন সৌদি আরব প্রবাসী নোমান। দেশে এসে তিনি তার স্ত্রী শামীমাকে ঢাকা ঘুরিয়ে দেখাবেন বলে ঢাকায় এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। কিন্তু কী এমন হয়েছিল যে দেশে এসে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করলেন। তাদের দুজনের মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজছে পুলিশ।

এর আগে গত রোববার রাত সাড়ে ১০টায় ৯৯৯ খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে নোমানের ঝুলন্ত মরদেহ ও স্ত্রী শামীমাকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

advertisement

নিহত নোমানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নোমান সৌদি আরব থাকতেন। তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে নোমানকে তার বাবা দেশে এসে বিয়ে করতে বলেন। পরে নোমান দেশে এসে পারিবারিকভাবে শামীমাকে গত বছরের নভেম্বরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নোমান আবার সৌদি চলে যান। এর মাঝে নোমানের সঙ্গে তার বাবার কোনো যোগাযোগ ছিল না। গত চার মাস আগে নোমান আবার সৌদি আরবে চলে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন তিনি। এসে সরাসরি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে শামীমাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পরে গতকাল রাতে নোমান ও শামীমা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

advertisement 4

পুলিশ জানায়, শামীমাকে হত্যা করার পর নোমান ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এই ঘটনায় নিহত শামীমার ভাই শামীম হোসেন বলেন, ‌‌‘আমার বোনের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয় নোমানের। আমার বোন আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। পড়ালেখার কারণে তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। সে আমাদের বাড়িতেই থাকত। বোনজামাই দেশে এসে আমার বোনকে ঢাকা ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোনজামাই বিদেশ থাকাকালীন বোনের সঙ্গে কোনো ধরনের মনোমালিন্য হয়নি। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু বুঝতে পারছি না। আমাদের আত্মীয়দের মাধ্যমেই দুজনের বিয়ে হয়েছিল। কাউকে না জানিয়ে কি কারণে তিনি দেশে এসে আমার বোনকে ঢাকায় নিয়ে গেলেন বুঝতে পারলাম না। যদি জানতাম তার সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য বা ঝগড়া হয়েছে তাহলে কিছু আঁচ করতে পারতাম।’

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মুজিব পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘দিনের যেকোনো সময় প্রথমে স্ত্রীকে গলা টিপে বা বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হয়। রাতে আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডির ফরেনসিক টিম গিয়েছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে নোমানকে ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে ও শামীমাকে ফ্লোরে তোষকের ওপর মৃত অবস্থায় পাই।’

 

advertisement