advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বন্ধের পথে ২৫০০ শুটকি চাতাল

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:১২ পিএম | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫০ পিএম
চলনবিলে শুটকি চাতাল। ছবি: সংগৃহীত
advertisement

 

 

advertisement

দেশীয় মাছের ভরা মৌসুমে মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের প্রায় ২ হাজার ৫০০ শুটকি চাতাল চরম মাছ সংকটে পড়েছে। ফলে বন্ধ হতে চলেছে শুটকির চাতালগুলো। এতে বেকার হয়ে পড়ছে ১০ থেকে ১২ হাজার শুটকি শ্রমিক।

advertisement 4

স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনার চাটমোহর, ভাংগুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরদাসপুর এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলাসহ চলনবিলের ৯ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ শুটকির চাতাল রয়েছে। চাতালগুলোতে ১০ থেকে ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

হাটিকুমরল-বনপাড়া মহাসড়কের মহিষলুটি এলাকায় গড়ে ওঠা চলনবিল তথা উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ মহিষলুটি মৎস্য আড়তের সভাপতি মজনু সরকার বলেন, চলনবিলের দেশীয় মাছের উপর নির্ভর করে বিলের ৯ উপজেলায় ২৫ শতধিক শুটকি চাতাল গড়ে উঠেছে। কিন্তু এ বছর মাছ সংকটে শুটকি চাতালগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

গুরদাসপুর উপজেলার শুটকি চাতালের মালিক জয়নাল, গফুর, রাজ্জাক ও মামুন জিয়ানী জানান, প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে পানি নামার সময় চলনবিলে দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছ টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, দাঁড়িগেল,গোঁর পুঁইয়া টাকি, বাইম, শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈ, চিংড়ি, চাঁন্দাসহ নানা প্রজাতির সু-স্বাদু মাছ প্রচুর পাওয়া যায়। এ সময় দামও কম থাকে। তখন এ সকল কাঁচা মাছ কিনে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাঁশের মাচায় রোদে শুকিয়ে শুকটি তৈরি করেন শুটকি চাতাল মালিকরা। দেশীয় মাছের এ সকল শুটকির ব্যাপক চহিদা রয়েছে সাড়া দেশে। কিন্ত এ বছর মাছ সংকটে চাতাল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, এ বছর চলনবিলে বন্যার পানি কম সময় অবস্থান করায় দেশীয় মাছ চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই শুকটি মাছ উৎপাদন ও এ পেশায় জড়িত শ্রমিকরা সংকটে রয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ভরা মৌসমে চলনবিলে দেশীয় মাছের সংকট জীববৈচিত্রের জন্য অশনী সংকেত। চলনবিলের কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসয়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে, মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তুলে এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা কঠোরভাবে বন্ধ করে চলনবিলের দেশীয় প্রজাতির মাছ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

advertisement