advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমার না, সত্যের জয় হয়েছে: নিপুণ

শিমুল আহমেদ
২১ নভেম্বর ২০২২ ০৬:৫৬ পিএম | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২২ ০৭:০৯ পিএম
সাধারণ সম্পাদকের আসনে নিপুণ। ছবি : মাসুম জয়
advertisement

চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এফডিসিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন বরেণ্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে জটিলতা সৃষ্টি হয় সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। যা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান নিপুণ আক্তার ও জায়েদ খান। অবশেষে দীর্ঘ নয় মাস পর আজ সোমবার উচ্চ আদালতের রায়ে সাধারণ সম্পাদক পদ ফিরে পান নিপুণ। এ নিয়ে আজ বিকেলে এফডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আগে আদালত প্রাঙ্গনে দৌড়ঝাঁপ আর সমিতির নানা বিষয় নিয়ে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন’র মুখোমুখি হয়েছেন নিপুণ।

শুরুতেই আপনার অনুভূতি জানতে চাই…

advertisement

আমার জন্য আজকের এই জয় নিয়ে আসাটা অনেক কষ্টকর ছিল। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, জয় আমার পক্ষে আসবে। আজ উচ্চ আদালতে দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে বিচার কার্যক্রম হয়েছে। আজ যখন রায় ঘোষণা হলো- তখন মনের মধ্যে থাকা সব কষ্ট কিছুটা হলেও লাগব হয়েছে। সেসময়ের মনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। একটা কথাই বলব- আমার না, সত্যের জয় হয়েছে।

advertisement 4

আপনি কীভাবে বুঝলেন আপনার জয় হবে?

আমি সব সময় সৎ থাকার চেষ্টা করেছি, আর এখনও আছি। সেখান থেকেই মনের মধ্যে একটা কনফিডেন্স ছিল। আর নির্বাচনের (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি) শুরু থেকেই যে দুর্নীতি হয়েছে এটা সবার জানা। আপনার যদি আমার সঙ্গে না থাকতেন, তাহলে এসব দুর্নীতি দেশের মানুষ জানত না। তাই শুরু থেকেই মনোবল ছিল, একদিন সত্যের জয় হবেই হবে। আর যে দুর্নীতি হয়েছে তার পরাজয় হবে।

আজ তো রায় ঘোষণার দিন ছিল। গতকাল (রোববার) রাতটি আপনার কীভাবে কেটেছে?

আজকের দিন কিন্তু সচরাচর আমাদের রায়ের দিন পড়ে না। সব সময় রায়ের দিনক্ষণ থাকে রোববার। আর কোর্ট থেকে ফোন আসলেই নিজের মধ্যে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করে। আমি আসলে বোঝাতে পারব না। মনে হয়, আমার সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে। যাই হোক, ফোন দিয়ে বলে আইটেম নম্বর ৪-এ আমার কেসটা আছে। তাই সকাল সকাল আমাকে ও ব্যারিস্টাদের কোর্টে থাকতে হবে। গতকাল বিকেলে ফোনটা পাওয়ার পর থেকে সকাল পর্যন্ত ওই ঘোরের মধ্যেই ছিলাম। আজ যখন কোর্ট বিচারকের সামনে ছিলাম তখনও কেমন জানি একটা ঘোর কাজ করছিল মনের ভেতর। আমি আসলে সে পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

এই পদ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তারপরও কিন্তু দীর্ঘ নয় মাস আপনি সমিতির সভাপতির (ইলিয়াস কাঞ্চন) সঙ্গে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে আপনাদের প্রাপ্তি কতটুকু?

অনেক প্রাপ্তি আছে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ও প্রথম বড় কাজ- আমরা সিলেটের বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আপনার সবাই জানেন, আমরা কতটুকু গভীরে গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে ত্রাণ দিয়েছি। আর একটা কথা না বললেই নয়, আমাদের প্রেসিডেন্ট কাঞ্চন ভাই আমার জন্য অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। তারপরও তিনি হাল ছাড়েননি। সব কথার বাইরে গিয়ে তিনি সমিতির উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। এরপর সমিতির পক্ষ থেকে সুন্দর একটি ইফতার পার্টি করেছি আর ঈদে যেভাবে যা করা দরকার- সেভাবেই কাজ করেছি। এ ছাড়া আমরা অনেক শিল্পীর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। যা আমরা বলতে চাই না।

মাঝে কথা রটেছিল, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জায়েদ খানকে নাকি এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে চাই?

এসব কথা কেন আসবে! আমি তো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আগেই বলেছি- এফডিসি সবার জন্য। উনি কেন আসতে পারবেন না, আর উনাকে কে বাঁধা দেবেন? উনার কি আসার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল? আমরা তো সবাই মিলে এফডিসিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান (স্মরণসভা, মিলাদ মাহফিল, জন্মদিন) করেছি। উনার তো এগুলোতে আসা উচিত ছিল। উনি তো আমার থেকে অভিজ্ঞ। কিন্তু উনি তো আসেননি। কেন আসেননি এটা উনিই ভালো বলতে পারবেন।

সমিতির আইন অনুযায়ী, সমিতির নিয়ম না মানলে তো তার সদস্যপদ স্থগিত কিংবা বাতিল হতে পারে। সে জায়গা থেকে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে কী এমন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে?

আপনার সবাই জানেন, উনি কিন্তু একটা বড় অপরাধ করেছেন। কোর্টের একটি মিথ্যা সার্টিফিকেট দেখিয়ে। আসলে কোর্টের বিষয় কিন্তু সবার বোঝার উপায় নেই। সেই সার্টিফিকেট দেখার পর কাঞ্চন ভাই কিন্তু তাকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। সেই সার্টিফিকেটের বিষয়টি কিন্তু আমরাও জানতাম না, পরবর্তীতে চেম্বার জজ থেকে জেনেছি। এখন এ বিষয়ে আমাদের প্রেসিডেন্ট কথা বলবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তো আপনারা এখনও কোনো সভা করেননি। এবার বিষয়ে কী বলবেন?

পূর্ণাঙ্গ কমিতি মিলে সিদ্ধান্ত ও কাজ ভাগাভাগি না করলে- তা সবার জন্য চাপ তৈরি হয়। এতদিন সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে হয়তো সবাই সভায় অংশ নেননি। এবার দেখার পালা, সামনে কি হয়। এরপর সভার সবার সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর উদ্দেশে কিছু বলতে চান?

উনাকে শুভকামনা জানাই। একটা কথাই বলব, নারী মানেই যে একজন পুরুষকে আকর্ষিত করে, এমনটা কিন্তু না। একজন নারী তার কর্ম দিয়ে এগিয়ে যায়। তার দৃষ্টান্ত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাই তাকে বলব, নারীদের ছোট করে কথা না বলার।

advertisement