advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাঠকের লেখা
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি

সুব্রত সরকার
২২ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২২ ১১:৫২ পিএম
advertisement

মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশে খুবই পরিচিত একটা নাম। মোবাইল ব্যাংকিং শব্দের সঙ্গে অনেকে পরিচিত না হলেও বিকাশ, নগদ, রকেট এই শব্দগুলোর সঙ্গে সবাই পরিচিত। আসলে বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায়, ট্যাপ, শিওর ক্যাশ এগুলো প্রত্যেকটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এক-একটি অপারেটর। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কারণ খুব অল্প সময়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত টাকা পাঠানো যায় বলে এই ব্যাংকিং সুবিধা আজ শহরে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের অনেকেই গ্রহণ করছে। চলতি বছরে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬৯ শতাংশ কর্মক্ষম মানুষ আছে। এই কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। আর এই ব্যাংকিং সুবিধা অপারেট হয় মোবাইলের মাধ্যমেই। তাই ব্যবহারকারীদের আলাদা করে ব্যাংকে যেতে হয় না, লাইনে দাঁড়াতে হয় না, কোনো অফিসে অপেক্ষা করতে হয় না। যে স্থানে আছেন সেখানেই নির্দিষ্ট অপারেটরের এজেন্ট দ্বারা টাকা লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং শুধু টাকা আনা-নেওয়া সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানি বিল, ইন্টারনেট বিল, ¯ু‹ল-কলেজের ফি প্রদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম লেনদেন করা যায় এক ক্লিকেই। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় কম হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে শ্রমজীবী, চাকরিজীবী মানুষদের কর্মঘণ্টা।

advertisement

কিছুদিন আগেও দেশে করোনায় হাহাকার অবস্থা ছিল। যদিও করোনার প্রাদুর্ভাব এখন অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু যখন করোনা মহামারী বিশাল সাগর আকৃতি ধারণ করে বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন পুরো দেশ ঘরবন্দি হয়ে গিয়েছিল। সে সময় অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ধারণা করেছিল হয়তো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থায় বিশাল ধস নামতে পারে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম ছিল না তখন, কিন্তু করোনা মহামারীতে নির্বিঘেœ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারায়, দেশের মানুষ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে তখনই। ঘরে বসেই অনেকে দৈনন্দিন ও জরুরি প্রয়োজনীয় লেনদেন করেছিল। ফলে দেশের এমন খারাপ পরিস্থিতিতেও অর্থনীতির চাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে কিছুটা হলেও সচল ছিল।

advertisement 4

বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা বলতে মূলত বোঝায় এজেন্টের কাজ করা। ব্যবসা হিসেবে এটি বেশ উপযুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম। অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে এই এজেন্ট ব্যবসার মাধ্যমে। পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ টাকা মূলধন হলেই এই ব্যবসায় নাম লেখানো যায়। তা ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠিত দোকানদার আছেন যারা দোকান সামলানোর পাশাপাশি এজেন্টের কাজও করছেন। কারণ এখান থেকে স্থানভেদে ভালো টাকাই উপার্জন করা যায়। তাই অনেকেই এই ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। ফলে নিজের ওপর থেকে বেকারত্বের টেগ যেমন মুছে যাচ্ছে, তেমন দেশের অর্থনীতিতেও কিছু কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ হচ্ছে।

মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তারা বলছেন, এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে। বর্তমানে দেশে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান এই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হয়েছে। এখানে বলা বাহুল্য, ২০২২-এর মার্চ মাসে জরিপ করে দেখা গিয়েছিল দেশে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ জনে। এখন এই সংখ্যা নিঃসন্দেহে আরও অধিকতর হয়েছে। ভেবে দেখার বিষয় শুধু এজেন্টের কাজ করেই কত মানুষ নিজের কর্মসংস্থান গড়ে তুলেছে। ফলে দেশে বেকারত্ব যেমন ধীরে ধীরে কমছে, তার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এতে অর্থনীতির গতি সঞ্চার হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এ দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেমন সহজ করেছে, তেমনি বাড়িয়েছে অর্থনৈতিক লেনদেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। অবদান রাখছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে। ঘুরছে অর্থনীতির চাকাও। এখন মানুষ চাইলেই যে কোনো জায়গা থেকে যে কোনো সময় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতে পারছে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল, যে কোনো জায়গা থেকে মুহূর্তেই টাকা পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের আপনজন বা প্রয়োজনীয় জায়গায়।

বর্তমান বিশ্ব খুব দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়নের দিকে আগাচ্ছে। এই উন্নয়নের তালিকায় মোবাইল ব্যাংকিং একটি অন্যতম খাত। বিশ্বের এই পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হলে দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিং খাত আরও উন্নত ও সহজ করতে হবে। যাতে দেশের নিম্নআয়ের মানুষও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় চলে আসে। কারণ আমরা সবাই জানি যে, আগামী দিনের বিশ্বে প্রচলিত মুদ্রার ব্যবহার কমে আসবে। ডিজিটাল মুদ্রা বা ই-মানি সেই জায়গা দখল করবে। মানুষের পকেটে কোনো টাকা থাকবে না। তাই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষ ও স্বল্প আয়ের মানুষদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আগে থেকেই অভিজ্ঞ করে তোলাটা অনেক জরুরি। যদি দেশের সব আয়ের (স্বল্প-উচ্চ) মানুষ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আস্থা পায় এবং ব্যবহার করে তা হলে দেশের অর্থনীতিতে মোবাইল ব্যাংকিং এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সুব্রত সরকার : মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৪র্থ সেমিস্টার, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement