advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিক্ষিকা কলেজছাত্রসহ নিহত ১১
দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে

২৩ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২২ ১১:৪৮ পিএম
advertisement

প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই ঝরে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণ। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই রোধ হচ্ছে না। তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতাকেই নির্দেশ করে। মৃত্যু মানুষের স্বাভাবিক নিয়তি হলেও একইভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ চলে যাবে না-ফেরার দেশে। গতকাল আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বেপরোয়া বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় প্রাণ গেছে ¯ু‹লশিক্ষিকা, কলেজছাত্র, পুলিশ কনস্টেবল ও শিশুসহ ১১ জনের। এর মধ্যে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে বাসের ধাক্কায় বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী নাজমা বেগম নামে এক ¯ু‹লশিক্ষিকা নিহত হন। এ ছাড়া রাজশাহী ও লক্ষ্মীপুরে দুজন এবং চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, নরসিংদী, শরীয়তপুর, বরিশাল, সিরাজগঞ্জে একজন করে নিহত হন। এভাবে প্রায়ই সড়ক-মহাসড়কে প্রাণ দিতে হচ্ছে মানুষকে। দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। আইন অমান্য করে দেশের অনেক অঞ্চলে ভটভটি চালানো হয় এবং সারাদেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়া বর্তমানে মোটরসাইকেলে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এসব বিষয়ে সঠিক তদারকি করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন অথবা ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকেরও অভাব নেই দেশে। ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল না জেনেই চালকের আসনে বসে গেছেন অনেকে। তাদের কাছে মানুষের জীবন একেবারেই নিরাপদ নয়। স্বাভাবিকভাবেই এ অবৈধ লাইসেন্সধারী গাড়িচালকরা গাড়ি চালাতে গিয়ে আইনের ধার ধারেন না। সঠিকভাবে এরা প্রশিক্ষিত নন, এমন চালকের সংখ্যা কম নয়। এই চালকদের পেছনে আছে শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকতা, যে কারণে এদের শনাক্ত করাও হয়ে পড়েছে দুষ্কর। প্রতিবার দুর্ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদন কোনোদিন আলোর মুখ দেখে না। সঙ্গত কারণেই দোষীদের শাস্তিও হয় না। বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থায় কোনো কিছু চলতে থাকলে তার পুনরাবৃত্তি তো ঘটবেই। প্রশ্ন হচ্ছে- আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান তার সবই কি দুর্ঘটনা? আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত- সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা। সড়ক দুর্ঘটনা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব সচেতনতায়। আইন কার্যকরের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন করতে হবে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

advertisement
advertisement