advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর
‘বিগ-বি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর

আবু আলী
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২২ ০৮:৫৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
advertisement

জাপানের দ্য বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে বেশ কয়েক বছর আগে এ প্রস্তাবটি দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। তারা মনে করছেন, বিগ-বি বাস্তবায়ন হলে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বাড়বে জাপানি বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ ডিসেম্বর জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, করোনা মহামারীর অভিঘাতের আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং স্বল্পোন্নত বা এলডিসি উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে এবার বিগ-বি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। সফরে জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ করতে চায় সরকার। এ ছাড়া বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসংক্রান্ত আরও বেশ কয়েকটি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকে সই করা হবে।

advertisement

জানা গেছে, এরই মধ্যে জাপানের সহায়তায় ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে চালু হওয়ার পথে রয়েছে মেট্রোরেল। আগামী ডিসেম্বরে মেট্রোরেলের একাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে জাপানি অর্থায়নে গড়ে উঠছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানেও জাপানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন। তবে দেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়লেও দেশটিতে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি বাজার এখনো সম্প্রসারণ করতে পারেনি। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও জাপানে হয়নি। বলা হচ্ছে- এফটিএ করা গেলে জাপানেও বাংলাদেশি পণ্যের বড় বাজার তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর বিগ-বি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বঙ্গোপসাগর কেন্দ্র করে জাপান বড় ধরনের শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায়। তেমনটি হলে জাপানের সরকারি-বেসরকারি খাত বড় বড় বিনিয়োগ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর সামনে রেখে বর্তমানে এফটিএ করার ব্যাপারে চুক্তি বা সমঝোতা সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এফটিএ করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

advertisement 4

২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হবে। এ কারণে ওই সময়ের পরও ব্যবসা-বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম পদক্ষেপ এটি। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, জাপানই এশিয়ার একমাত্র দেশ যেখানে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জাপানে পোশাক সামগ্রীর চালান এপ্রিল ২০১১ থেকে শুরু হয়, যখন দেশটি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য এবং নিটওয়্যার খাতের জন্য তার শুল্কনীতি শিথিল করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাপানের সঙ্গে এফটিএ করার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। না হলে বাংলাদেশ থেকে ২০ শতাংশ জাপানি বিনিয়োগ অন্য দেশে চলে যেতে পারে বলে উঠে এসেছে এক জরিপে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (জেবিসিসিআই) পরিচালিত সমীক্ষার এ ফল সম্প্রতি ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ১০০ জাপানি ও ৩০ বাংলাদেশি বহুজাতিক কোম্পানি ওই জরিপে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বলেন, জরিপের অংশগ্রহণকারী ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ ১১১ কোম্পানি আশা করছে- জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে এফটিএ সই হবে। আবার ২০ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বলেছে- এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জাপানে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) উঠে গেলে তারা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক বাজার চীন ও ভারতের মতো দেশে স্থানান্তরিত করার চিন্তা করতে পারে। অথবা কমিয়ে দিতে পারে উৎপাদন। ওই সময় ঢাকার জাপান দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হলে এখনকার জিএসপি সুবিধা থাকবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থাপনা দরকার, যা এফটিএ হতে পারে।

এদিকে এলডিসি উত্তরণের পর জাপানের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে তিনটি সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সেগুলো হলো- জিএসপি প্লাস নিয়ে দর-কষাকষি, কোভিড প্রেক্ষাপটে আরও দু-তিন বছর বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা ও এফটিএ সই। এ ছাড়া জাপানের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশের ভেতরে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

জাপান সফর নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপান খুবই আাগ্রহী। জাপান বরাবর বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনের পরই বঙ্গবন্ধু জাপান সফর করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ঢাকার মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় বড় অবকাঠামোতে দেশটি বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। এবারের সফরে পরিবর্তিত বাংলাদেশে জাপানিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে।

advertisement