advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোনালদো আছেন বলেই পর্তুগালের আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক, দোহা থেকে
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:৫১ পিএম
advertisement

শূন্য থেকে ফুটবলের মাইকেল জ্যাকসন হয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রতিটি মঞ্চে নিজের নাম পাথর হরফে খোদাই করে রেখেছেন। পর্তুগালের পিছিয়ে পড়া একটি গ্রাম মাদেইরা থেকে উঠে আসা একটি ছেলে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলের সব জিতেছেন একটি বিশ্বকাপ ছাড়া। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। সেবার পর্তুগাল ফিগোকে সঙ্গে নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। পাঁচ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে আসা রোনালদোরও দায়িত্ব এ দলটিকে বিদায়ের আগে কিছু দিয়ে যাওয়া। ম্যারাডোনা, ইউসেবিও, ক্রুইফ ও জিদানরা যা করেছিলেন। সেটিই রনকে করতে হবে। এ ছাড়া ফুটবল বড়ই নির্মম!

advertisement

৩৭ বছর বয়সে দোহা এসেছেন ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে। অবশ্য বিতর্ক সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়ে। ক্লাবও ছেড়েছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের পর তিনি

advertisement 4

রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়েন। আবার আরও একটি বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলস্কোরারের। রোনালদো সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দোহায় আসার পর। তার মুখে হাসি দেখে বোঝার উপায় নেই, কি ঝড় বয়ে চলেছেন বুকের মাঝে। আর এ বিশ্বকাপে সে ঝড় মাঠে আনতে চান। আজ বিশ্বকাপের ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ঘানা। স্টেডিয়াম ৯৭৪ বা রাস আবু আবাউদে লড়াই। এ দলটি বিশ্বকাপ জয়ের মতো শক্তিশালী নয়। গোল স্কোরিংয়ের যে অভাব রয়েছে। সেটি পূরণ করলে পর্তুগালের আশা জেগে ওঠে। গ্রুপ এইচে পর্তুগালের আরও প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়া। আসলেই কঠিন গ্রুপ। এই গ্রুপ থেকে কোয়ালিফাই করাই মুশকিল। উরুগুয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে হারিয়ে বিদায় করে দেয়। কাভানি জোড়া গোল করেছিলেন সে ম্যাচে। পর্তুগালের প্রতিশোধের ম্যাচ বলাই চলে।

পর্তুগালের টিম কম্বিনেশনটি দারুণ ছিল। বিশ্বকাপের আগে লিভারপুলে খেলা দিয়েগো জোটা ইনজুরিতে পড়ে গ-গোল করে ফেলেন। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। আর জোটা চলে যাওয়ায় বিশ্বকাপ দলে ভারসাম্য নেই পর্তুগালের। রোনালদো, ফেলিক্স ও ব্রুনো যা আশাভরসা এ দলের। রোনালদোর এখন সময় এসেছে ফিগো বা ইউসেবিওর মতো জ্বলে ওঠা। গত ১৬-১৭ বছর ধরে মোহগ্রস্ত করে রেখেছেন ফুটবলবিশ্বকে। এখন তার ডেলিভার দেওয়ার সময় এসেছে। পুরো পর্তুগাল তাকিয়ে তার দিকে।

পর্তুগাল শুধু ১৯৬৬ ও ২০০৬ সালে দুবার বিশ^কাপের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গত পাঁচ আসরের মধ্যে চারটিতেই শেষ ১৬-এর পর আর যেতে পারেনি। এবার ব্যতিক্রম কিছু হতে পারে যদি রোনালদো জ্বলে ওঠেন।

ঘানা ২০১৮ বিশ্বকাপে ছিল না। ৮ বছর পর বিশ্বকাপে এসেছে। এ গ্রুপে উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়াও কঠিন দল। আফ্রিকার দেশ ঘানাকে প্রমাণ করতে হবে তারা কেন বিশ্বকাপে খেলাটা ডিজার্ভ করে।

ওটো আদ্দো কোচ হিসেবে নিয়োগের পর আফ্রিকান নেশন্স কাপের তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছের ব্ল্যাক স্টার্সরা। গ্রীষ্মের পর থেকে ঘানা নিজেদের প্রমাণে যেন ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় শেষ আটটি ম্যাচের সাতটিতেই জয়ী হয়েছে ঘানা। এই জয়গুলোর কোনোটিতেই কোনো গোল হজম করেনি। একটিমাত্র পরাজয় এসেছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে।

পর্তুগালের শুরুটা আজ সহজ হবে না। রোনালদোকে আসলে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনিই কেবল পারেন আফ্রিকার অদম্য শক্তি ঘানাকে রুখে দিতে।

advertisement