advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুমিল্লায় বিএনপির গণসমাবেশ
সীমিত মাইক ও মিছিল না করাসহ ১০ শর্তে অনুমতি পরিবহন ধর্মঘট হচ্ছে না

সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, কুমিল্লা
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:৫১ পিএম
advertisement

আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে নগরের টাউন হল মাঠে। মাইক সীমিত রাখা ও মিছিল না করাসহ ১০ শর্তে এ সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে সিনিয়র সহকারী কমিশনার রাজিব চৌধুরী স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্র বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। ?কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে,

advertisement

এরই মধ্যে টাউন হল মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে মাঠপর্যায়ে চলছে বিরামহীন প্রচার। কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে লাখো নেতাকর্মী-সমর্থকের বড় জমায়েত হবে বলে দলীয় নেতারা প্রত্যাশা করছেন। মাঠের চারপাশের ভবন ছাড়াও নগরের সব রাস্তা ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ দলের শীর্ষ নেতারা। তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করছেন।

advertisement 4

বিএনপির আগের বিভাগীয় গণসমাবেশগুলো কেন্দ্র করে কয়েকটি বিভাগে বাস ধর্মঘট আহ্বান করা হলেও কুমিল্লায় তা হচ্ছে না। গতকাল বুধবার বিকালে কুমিল্লা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেছেন, ‘বিএনপি সমাবেশ করুক, আমরা ধর্মঘটে যাচ্ছি না।’

গণসমাবেশ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকাল থেকে ৭২ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রস্থ মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেছেন ঢাকা থেকে আসা ডেকোরেটরকর্মীরা। মঞ্চ তৈরিতে নিয়োজিত ডেকোরেটরকর্মী ফারুক হোসেন জানান, অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মীর স্থান রাখার উপযোগী করে মঞ্চ তৈরির কাজ হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে দেওয়া অনুমতিপত্রে শর্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘিœত হয় এমন বক্তব্য রাখা যাবে না। ব্যানার ফেস্টুন ইত্যাদি ব্যবহার সীমিত করতে হবে। ব্যানার-ফেস্টুন, পতাকা স্ট্যান্ড হিসেবে কোনো লাঠি ব্যবহার করা যাবে না। সমাবেশ বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে শেষ করতে হবে। মাইকের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে, উচ্চ শব্দে ব্যবহার করা যাবে না। যানবাহনসমূহ শহরের ভেতরে প্রবেশ করানো যাবে না। রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশের কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকতে হবে। মোটর শোভাযাত্রা ও মিছিল করা যাবে না। সমাবেশে নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়ার পথে কোনো প্রকার নাশকতাপূর্ণ কর্মকা- তথা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এ রূপ কর্মকা- করা যাবে না। সমাগত নেতাকর্মীরা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, নেতাদের তথা আয়োজকদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। মঞ্চ তৈরিতে যারা জড়িত, তারা ছাড়া অন্য কেউ সমাবেশ শুরুর পূর্বে সমাবেশস্থলে প্রবেশ কিংবা অবস্থান করতে পারবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘পরিবেশ পরিস্থিতিতে অনেক কিছুই করতে হয়। এতসব শর্ত মেনে বিশাল একটি সমাবেশ করা সম্ভব না। তবে আমরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এ সমাবেশ সফল করতে সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ওপর দিয়ে মহাসড়ক, রেলপথ গেছে। ধর্মঘট দিলে আমাদের সমাবেশ সফল হলেও মানুষের দুর্ভোগ বাড়ত। তাই তাদের (পরিবহন নেতা) শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে- এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।’

advertisement