advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি, দালালেই মুক্তি!

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
২৫ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৫৩ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২২ ১০:০৫ এএম
নেত্রকোণা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। ছবি: আমাদের সময়
advertisement

নেত্রকোণা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সরকার-নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সরাসরি গেলে সেবা মেলে না। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে, এই অফিসে ঘোরাঘুরি করা দালালদের শরণাপন্ন হলে আর কোনো ভোগান্তি থাকে না। কেবল দ্বিগুণ-ত্রিগুণ অর্থ গুনলেই দ্রুত পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট।

ইতোমধ্যে হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত করতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলার সদর উপজেলার শিবপ্রসাদপুর গ্রামের মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে মো. সাহাব উদ্দিন (৭৫)।

advertisement

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী সাহাব উদ্দিন পবিত্র ওমরা হজ্ব পালন করার উদ্দেশে নেত্রকোণা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলতি বছরের মার্চ মাসের ২০ তারিখে ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে পাসপোর্ট সরবরাহ দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও পাসপোর্ট অফিসের নির্ধারিত দালাল ছাড়া পাসপোর্টের জন্য আবেদন করায় নানা অজুহাতে তাকে পাসপোর্টটি সরবরাহ করা হয়নি। পাসপোর্টটি না পেয়ে গত ১৬ নভেম্বর তিনি আবারও ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পাসপোর্টের জন্য নতুন করে আবেদন করেন।

advertisement 4

ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগকারী বৃদ্ধ সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘একসঙ্গে ওমরা হজ্ব করতে যাওয়ার জন্য যারা পাসপোর্টের আবেদন করেছিলাম তারা সবাই দালালদের মাধ্যমে অফিসের বাড়তি টাকার চাহিদা পূরণ করে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট নিয়ে ওমরা হজ্ব করে এসেছেন। আর দালালদের মাধ্যমে অফিসের বাড়তি টাকার চাহিদা পূরণ করতে না পারায় আমাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। অফিসে পাসপোর্টের জন্য যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আমার ফাইল হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আবারও পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত লোক পাসপোর্ট করতে এসে পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে।’

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নেত্রকোণার সহকারী পরিচালক উম্মে কুলসুম বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০টি পাসপোর্ট হয়। পাসপোর্টের জন্য কম্পিউটারের দোকান অথবা আপনি নিজেও অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।’

সরাসরি নিজে অনলাইনে আবেদন করলে পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিড়ম্বনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো বিড়ম্বনা নাই, আপনি রোববার আসেন আমি আপনার সঙ্গে কথা বলবো। নেত্রকোণার শতকরা ৮০ জন লোকই আমার পরিচিত। আমার সম্পর্কে খবর নিয়ে আপনি জানতে পারেন। আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আপনি অফিসে আসেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫টি কম্পিউটার দোকানের ব্যবসা। প্রতিটি দোকানেই দেখা যায় পাসপোর্ট করতে আসা লোকজনের উপচে পড়া ভিড়। আবেদনে প্রত্যেক দোকানের আলাদা সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের ভিতরে ১০৫ নম্বর কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীগণ। সকাল সাড়ে ১০টায় অফিস সহকারী রিয়াজ শুরু করলেন আবেদনপত্র যাচাই-বাচাই। আবেদনে সাংকেতিক চিহ্ন চোখে পড়লেই আবেদন সঠিক। সাংকেতিক চিহ্ন না থাকলে কোনো না কোনো ত্রুটি আবেদনে থাকবেই। ত্রুটি সংশোধনের জন্য আবেদন বাতিল করে আবারও নতুন আবেদনের পরামর্শ। অবশেষে দালালদের মাধ্যমে অফিসের বাড়তি চাহিদা পূরণ করে আবেদনে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করেই রোজিনা নামের বৃদ্ধার আবেদনটি রিয়াজ সাহেবের কাছে সঠিক হলো। রোজিনা আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী গ্রামের মন্নাফ তালুকদারের স্ত্রী। তিনি পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশে পাসপোর্ট করার জন্য এসেছিলেন নেত্রকোণা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে।

রোজিনা বলেন, ‘তাদের পরিবারের আরোও ৪ জন ওমরা হজ্ব করার জন্য পাসপোর্ট করেছেন। তারা প্রত্যেকেই পাসপোর্ট করার জন্য ব্যাংকের নির্ধারিত ফি ছাড়াও বাড়তি টাকা পরিশোধ করে আবেদনে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করেছিল। নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ করেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সির পক্ষ থেকে জানান, নেত্রকোণা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ শতাধিক পাসপোর্ট হয়। আবেদন করার সময় ব্যাংকের নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা অফিস খরচ বাবদ দিতে হয়।

advertisement