advertisement
advertisement
advertisement

রোহিঙ্গা নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকায় মার্কিন সহকারী মন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:৩৩ এএম
advertisement

বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থা সরেজমিন দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা পৌঁছান। চারদিনের সফরে তিনি সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে সিরিজ বৈঠক করবেন। পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুতে তার আলোচনা হবে। এ ছাড়া এনজিও, আইএনজিও এবং শরণার্থী নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের অধীন সংস্থাগুলোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাঁচ বছরেও তাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো কিছু রোহিঙ্গাকে স্থায়ীভাবে তাদের দেশে পুনর্বাসনের চিন্তা করছে। এ জন্য ঢাকাকে একটি তালিকাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কানাডা এবং ইউরোপের অনেক দেশের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো তৃতীয় দেশে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

advertisement

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সফরসূচি অনুযায়ী আজ রবিবার কক্সবাজার যাবেন মার্কিন সহকারী মন্ত্রী নয়েস। সেখান থেকে ফেরার পর ৬ ডিসেম্বর তার ভাসানচরে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করতে পারেন। আইনি পন্থা মেনে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনে যেসব আইনি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরে। মার্কিন সহকারী মন্ত্রীর সফরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের কীভাবে পুনর্বাসন সহজে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপ-সহকারীমন্ত্রী আফরিন আক্তার বাংলাদেশ সফর করেন। সেই সফরে তিনি রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন।

advertisement

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত পারিবারিক পুনর্মিলনের আওতায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিতে কানাডাও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতি বছর রোহিঙ্গা অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্বে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভ্যালস নয়েসের বৈঠকে একাধিক বছরের জন্য জেআরপি পরিকল্পনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশকে এ প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।