advertisement
advertisement
advertisement

গ্রিসে বৈধভাবে থাকার সুযোগ মিলবে যেভাবে

জাকির হোসাইন চৌধুরী,গ্রিস
১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ০৫:১৬ পিএম | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ০৬:১২ পিএম
গ্রিসে বাংলাদেশের দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
advertisement

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিল গ্রিস সরকার। গত ৮ জানুয়ারি দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই ঘোষণায় আনন্দিত দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা।

অবৈধ শ্রমকিদের বৈধতা দিতে প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ প্রবাসীরা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানের এই সুযোগ পাবেন যারা ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন।

advertisement

বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে অভিবাসন বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও গ্রিস সরকারের আইন অনুযায়ী যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রিসে অবৈধভাবে বসবাস করছেন তাদের বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রিস সরকার একটি বিশেষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের যে ধাপগুলো সঠিকভাবে পূরণ করে অবৈধ বাংলাদেশিরা বৈধ হতে পারবেন সেগুলো হলো:

advertisement 4

১. এই প্ল্যাটফর্মে আবেদনের জন্য অবৈধ বাংলাদেশিদের নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন:

ক. দুই বছরের বেশি মেয়াদী বাংলাদেশি পাসপোর্ট (আবেদন করার দিন পর্যন্ত)।

খ. ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির আগে গ্রিসে আসার প্রমাণপত্র।

গ. গ্রিসের একজন চাকুরিদাতার থেকে পাওয়া নিয়োগপত্র।

ঘ. আবেদন ফি ৭৫ ইউরো (নির্ধারিত ২১৪৮ কোডে) জমা করে তার কোড সংগ্রহ।

ঙ. নিজ নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা (উক্ত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে প্রয়োজনীয় মেসেজ ও কোড আসবে)।

বৈধতা দেওয়ার এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে গ্রিসে বসবাসরত উপযুক্ত এবং আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকরা দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজ নিজ পাসপোর্ট সত্যায়িত করার মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।

২.দ্বিতীয় ধাপে দূতাবাসে নিবন্ধন করা প্রবাসীদের গ্রিস সরকারের চালু করা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রাথমিক তথ্য দিয়ে বৈধতার জন্য আবেদন করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যাদের আবেদন গ্রহণ করা হবে দূতাবাস ক্রমানুযায়ী তাদের তালিকা প্রতি সপ্তাহে দূতাবাসের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করবে।

৩.তৃতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজ নাম ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে নিজের প্রোফাইলে খুলবেন। এরপর তারা পাসপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি, গ্রিসে অবস্থানের প্রমাণপত্র ও সম্ভাব্য একজন চাকুরিদাতার নিয়োগপত্র আপলোড করবেন। এ সময় তার নিজ নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল আইডি, আবেদন ফির কোড আবেদনপত্রের নির্ধারিত ঘরে প্রবেশ করাতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের আবেদন সম্পন্ন হলে তিনি সাবমিট করবেন।

আবেদন সাবমিট করার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদকারীর নিজ ই-মেইল আইডিতে বৈধতা সনদ পাঠানো হবে। স্মার্ট কার্ড রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প রেসিডেন্স পারমিট হিসাবে কার্যকর হবে। এই বিকল্প রেসিডেন্স পারমিট দিয়ে আবেদনকারী যেকোনো ধরনের চাকরিসহ সবধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত করতে পারবেন।

 

যেসকল অবৈধ প্রবাসী গ্রিসে বৈধ হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করবেন তাদের সুবিধার্থে কিছু সতর্কতাস্বরূপ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। সেগু্লো হলো-

ক. অনলাইনে আবেদন একটি সহজ ও সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়া। আবেদনকারী নিজেই অথবা ক্ষেত্র বিশেষে ইংরেজি জ্ঞান সম্পন্ন একজন প্রবাসীর সহায়তায় করতে পারবেন। এ জন্য কোনো উকিলের প্রয়োজন নাই। দূতাবাস যে কোনো সময়ে এ বিষয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

খ. আবেদনকারীরা অবশ্যই নিজ নামে নিবন্ধিত সিমের নম্বর ও ই-মেইল এড্রেস ব্যবহার করবেন। কারণ, গ্রিস সরকার তা যাচাই/ভেরিফাই করবে।

গ. কোনো অবস্থাতেই নিজ মোবাইল নম্বর এবং নিজ ই-মেইল ব্যতীত অন্য কারও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ব্যবহার করা যাবে না। করলে ভবিষ্যতে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবণা রয়েছে।

ঘ. যেহেতু ছয় মাস ধরে এই বৈধকরণ প্রক্রিয়া চলবে। তাই কোনো ধরনের তাড়াহুড়া না করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নির্ভুলভাবে আবেদন সম্পন্ন করুন।

ঙ. যেহেতু নিজ নাম ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হবে বা করা যাবে তাই নিজ নাম, পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং নিজ ই-মেইল এড্রেসসহ কোনো ধরনের তথ্য ও দলিলপত্র কাউকে দিবেন না। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অতি উৎসাহী হয়ে যেনো কোনো দালাল বা প্রতারকের থেকে প্রতারিত না হোন সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে সকলকে অনুরোধ করা হলো।

চ. গ্রিস সরকারের ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল অবৈধ বাংলাদেশিকে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দূতাবাস থেকে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রদান অব্যাহত থাকবে।

advertisement