advertisement
advertisement
advertisement

উন্নয়নের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০৮:১৬ এএম
advertisement



বাংলাদেশের সব ধরনের উন্নয়নের পাশে থাকার আশ^াস দিয়েছেন বিশ^ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে আসেন ট্রটসেনবার্গ। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশকে আগামীতে আরও বেশি সহায়তার আশ্বাস দেন বিশ্বব্যাংক এমডি।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির গতিপথ অনেক দেশের জন্য অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশ রেকর্ড সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য কমিয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনে একটি অগ্রণী এবং উদ্ভাবনী ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাংক পাঁচ দশক ধরে একটি অবিচল অংশীদার এবং বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন অর্জনে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ভ্যান ট্রটসেনবার্গ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং ২০২০-২০২২ সালের মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ফোরামের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।’
ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১৯৭১ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়জনিত মৃত্যু ১০০ গুণেরও বেশি কমিয়ে সাহসী ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি গ্রহণ করে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বিশ্বব্যাপী আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৭শ কিলোমিটারেরও বেশি উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করেছে। এক হাজার সাইক্লোন শেল্টার (যা স্কুল হিসেবেও কাজ করে) এবং ৫৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক তৈরিতে অবদান রেখেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন তিনি। বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে ৫৯ কোটি ডলারের অনুদান দিয়েছে।
ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক মহামারীর প্রভাব এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবসহ বৈশ্বিক ধাক্কার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সাহায্য করছে। এ ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে সাহায্য করছে। আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করতে এবং জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস করতে আরও সহায়তা করব।’

advertisement