advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে অবৈধভাবে ‘পাঁচ হাজার’ জন্মনিবন্ধন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৫২ পিএম
advertisement

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবৈধভাবে জন্মসনদ নিবন্ধনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের সদস্যরা। ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, গত সাত মাসে চক্রটি প্রায় পাঁচ হাজার জন্মসনদ নিবন্ধন করিয়ে দিয়েছে। তারা প্রতিটির জন্য নিয়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোমবার পুলিশের স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস টিম ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে খুলশী থানার এ সংক্রান্ত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

advertisement

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর মনছুরাবাদ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ দাবি করেছেন, তারা অবৈধ জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি সঙ্গে জড়িত মো. জহির আলম (১৬), মোহাম্মদ মোস্তাকিম (২২), দেলোয়ার হোসাইন সাইমন (২৩) ও মো. আবদুর রহমান আরিফকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে চসিকের আইডি হ্যাকড কার্যক্রমে ব্যবহৃত চারটি সিপিইউ, তিনটি মনিটর, একটি স্ক্যানার ও প্রিন্টার, দুটি প্রিন্টার এবং চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৫ হাজারেরও বেশি অবৈধ জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে বিতরণ করার তথ্য স্বীকার করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, একটি অবৈধ জন্ম সনদ তৈরি করতে একাধিক চক্র ৫০০-৮০০ টাকা নিয়েছে। আর একেকটি চক্রে সদস্য সংখ্যা ৩০-১০০ জন বলে উল্লেখ করা হয়। তারা কোন স্থান থেকে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে সেটা উল্লেখ করেনি। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ৫ হাজার অবৈধ জন্ম সনদ তৈরির বিষয়টির সত্যতা ও এ সংক্রান্ত অসংখ্য আলামত পেয়েছে পুলিশ।

advertisement 4

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) জন্ম নিবন্ধন শাখার আইডি হ্যাক করে হ্যাকাররা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ ২৮টি জেলার স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে গত ১৫ দিনে ৫৪৭টি ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে প্রতিটি ৫০০-৮০০ টাকার বিনিময়ে বিতরণ করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের দাবি, আনুমানিক পাঁচ হাজার অবৈধ জন্ম সনদ তৈরি করেছে হ্যাকাররা।

উল্লেখ্য, চসিকের জন্ম নিবন্ধন আইডি প্রথম হ্যাক করা হয় ২০২১ সালের

১৪ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন দেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অফিসিয়াল সার্ভারের আপগ্রেডেশনের কাজ চলার সময় হ্যাক করে ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা, ৬ নম্বর চকবাজার ও ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে ১৮টি জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। এর মধ্যে ১২টি ছিল রোহিঙ্গার নামে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা ও চকবাজার থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধন সহকারীরা। এ ঘটনার পর আবারও অবৈধ জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুর ঘটনা ঘটল।

চসিকের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি নগরীর ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে ৪০টি জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে হ্যাকাররা। এ ব্যাপারে পরদিন নগরীর বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জন্ম নিবন্ধন সহকারী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন অপু। এর পর ১০ জানুয়ারি ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের আইডি হ্যাক করে ১৮টি, এ ওয়ার্ডে ১৯ জানুয়ারি ৫০টি এবং ২২ জানুয়ারি ৩৪১টি জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে হ্যাকাররা। এ ব্যাপারে হালিশহর থানায় জিডি করা হয়। ৮ জানুয়ারি আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের আইডি হ্যাক করে ইস্যু করা হয় ৪টি জন্ম নিবন্ধন সনদ। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ১৪ জানুয়ারি জিডি করেন জন্ম নিবন্ধন ডাটা এন্ট্রি সহকারী সঞ্জীব আচার্য। এ ছাড়া ১০ জানুয়ারি ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আইডি হ্যাক করে ১০টি এবং ২১ জানুয়ারি ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের আইডি হ্যাক করে ৮৪টি জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। এ নিয়ে ১৫ দিনে মোট ৫৪৭টি অবৈধ জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে হ্যাকাররা।

নগরীর ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের জন্ম নিবন্ধন সহকারী মো. রহিম উল্লাহ বলেন, জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করতে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিরিয়াল নম্বর পড়তে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। তখনই আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। এর পর থেকে আমরা জন্ম নিবন্ধন ইস্যু বন্ধ রেখেছি।

নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আমার ওয়ার্ডের লগইনের বিপরীতে যেসব জন্ম নিবন্ধন হয়েছে, সেগুলোতে রাজশাহী, জামালপুরের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু নিবন্ধন নম্বর আমার ওয়ার্ডের।

চসিক মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাসেম আমাদের সময়কে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের নির্দেশনায় জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার আইডি হ্যাক করে জালিয়াতির ঘটনায় চসিকের উত্তর পতেঙ্গা, আন্দরকিল্লা, উত্তর পাহাড়তলী, দক্ষিণ কাট্টলী ও দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্র্ডে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আগে ইস্যু হওয়া ৫৪৭ সনদ বাতিল করা হচ্ছে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হ্যাকিংয়ে ভুক্তভোগী চসিক হলেও মূলত হ্যাকিং হয়েছে ঢাকার জাতীয় সার্ভারে। এ বিষয়টি অবগত হওয়ার পরই আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করেছি।

advertisement