advertisement
advertisement
advertisement

এক দিনে আদানি গ্রুপের হাজার কোটি ডলার লোকসান

অনলাইন ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:৫৫ পিএম | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:১১ এএম
আদানি গ্রুপের চেয়ারপারসন গৌতম আদানি
advertisement

মার্কিন বাজার গবেষণা সংস্থা হিডেনেবার্গের করা গবেষণা প্রতিবেদনের পর ধস নেমেছে ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের শেয়ারে। আজ বুধবার হিন্ডেনবার্গ জানিয়েছে মার্কিন-ট্রেডেড বন্ড এবং নন-ইন্ডিয়ান-ট্রেডেড ডেরিভেটিভ ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে ভারতের আদানি গ্রুপে তাদের শর্ট পজিশনে রয়েছে। এতে আর্থিকভাবে বেশ ‘চাপে’ রয়েছে আদানি গ্রুপ। এ প্রতিবেদনের পরই গ্রুপটি মূলধন ১ হাজার ৮০ কোটি ডলার কমেছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, আদানি গ্রুপের মোট সাতটি সংস্থা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অত্যন্ত চড়া ভ্যালুয়েশনের কারণে সংস্থাগুলির শেয়ারে প্রায় ৮৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে হিন্ডেনবার্গ। এই অতিরিক্ত ভ্যালুয়েশনের শেয়ারকেই সিকিউরিটি হিসাবে বন্ধক ধরে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ সংস্থাই বর্তমানে আর্থিকভাবে একটি স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

advertisement

গত বছর, ২০২২ সালে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার প্রায় ১২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বের তৃতীয় ধনীতম ব্যক্তির আসনে চলে আসেন এর চেয়ারপারসন গৌতম আদানি। গ্রুপের অন্য সংস্থাগুলোর শেয়ারও প্রায় ১০০ শতাংশ বেড়েছে।

advertisement 4

এদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আদানি গ্রুপের ঋণও। ২০২১-২২ ত্রৈমাসিকে আদানি গ্রুপের মোট ঋণের অঙ্ক প্রায় ২ দশমিক ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্রুপটির ঋণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে এই বিপুল ঋণের অঙ্ক নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করে বিশ্লেষক সংস্থা ক্রেডিটসাইটস।  

আজকের প্রতিবেদনের পরপরই আদানি গ্রুপের বেশ কিছু সংস্থার শেয়ার দ্রুত হারে নিম্নমুখী হয়েছে। এর মধ্যে আদানি গ্রিন এনার্জি:র শেয়ারের দাম পতন হয়েছে ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, আদানি ট্রান্সমিশনের কমেছে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, আদানি পাওয়ারের কমেছে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ,  আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোনের কমেছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, আদানি এন্টারপ্রাইজেসের কমেছে  ১ দশমিক ০৭ শতাংশ, আদানি উইলমারের কমেছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও  আদানি টোটাল গ্যাসের শেয়ারের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।

শেয়ারের দাম কমার বিষয়ে আদানি গ্রুপের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) যুগেশিন্দর সিং বলেন, ‘হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই বা বাস্তব পরিসংখ্যান যাচাই না করেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আমরা হতবাক। এগুলো আসলে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভুল, ভিত্তিহীন তথ্য। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতও আগে তা স্পষ্ট করেছে এবং এই জাতীয় দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।’

সম্প্রতি এক টিভি শো-তে গৌতম আদানি বলেন, ‘আমাদের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস যদি দেখেন, কোথাও খারাপ রিপোর্ট দেখবেন না। নিয়মিত ঋণের টাকা শোধ করতে বদ্ধপরিকর আমরা।’

advertisement