ছুটিতে শাবির হল বন্ধের সংস্কৃতি

জিয়াউল ইসলাম শাবি
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:২৫

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা না করে হল বন্ধের ঘোষণা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ছুটি আসবে হল বন্ধ হবে নাÑ এমন দৃশ্য বিশ^বিদ্যালয়টিতে বিরল। বিগত দুই বছরে দুই ঈদ ও শীতকালীন ছুটি মিলিয়ে মোট ছয়বার হল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

আগামী বছর ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তনের কারণে শীতকালীন ছুটি পিছিয়ে ৫ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় আবাসিক হল বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এ ছুটি চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রশাসনের হল বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরচারী’ আচরণ আখ্যায়িত করে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সমাবর্তনের সময় হল বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাবর্তনপ্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটরা। তাদের দাবি, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলেও কোথাও আবাসিক হল বন্ধ রাখতে হয়নি। লোকপ্রশাসন বিভাগের গ্র্যাজুয়েট মো. মকছু মিয়া বলেন, হল বন্ধের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। সমাবর্তনে সিনিয়র-জুনিয়রদের মেলবন্ধন তৈরি হয়। আমরা চাই হল খোলা থাকুক। সবার অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হোক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক

পোস্টে আরেক গ্র্যাজুয়েট তাহের টোটন লেখেন, ‘হলের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে সমাবর্তন চাই না। এমন হলে আমার সার্টিফিকেটটা যেন কর্তৃপক্ষ কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেয়।’

এদিকে বিগত দুই বছরে এ নিয়ে ছয়বার হল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ২০১৮ সালে ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ২০ দিন, একই বছর পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে ১৩ দিন, ২০১৯ সালে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ২১ দিন এবং একই বছরের ঈদুল আজহার ছুটিতে ১২ দিন বিশ^বিদ্যালয়ের সবগুলো আবাসিক হল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ২০১৮ সালের শীতকালীন ছুটিতে জাতীয় নির্বাচনের কারণে হল বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

ঈদের ছুটিতে হল বন্ধ করলে বিপাকে পড়েন অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী আবাসিক শিক্ষার্থী। কানন দাস নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির কিছু দিন পরই দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হওয়ায় আমরা একবারে পূজার ছুটিতে বাড়ি যেতে চাই। কিন্তু হল বন্ধ করে ঈদের ছুটিতে আমাদের বাড়ি যেতে বাধ্য করা হয়।

এদিকে প্রতিবারই প্রশাসনের চাপিয়ে দেওয়া এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রশাসনের কয়েক কর্তাব্যক্তির কারণে দাবি জোরালো হয়নি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ হল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে গত বুধবার মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ ও আন্দোলনকারীদের বাগ্বিত-ার মুহূর্ত ভিডিও করতে গেলে এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে প্রক্টর তার কার্যালয়ে চলে যান। এতে মানববন্ধনটি প- হয়ে যায়। প্রক্টরের এমন আচরণকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ^বিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী স্বপন আহমেদ বলেন, হল ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিতে অপারগ। ছুটির সময় নিজেরা আরাম-আয়েশ করার জন্য হল বন্ধ করে তারা হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। আমরা দায়িত্বশীল শিক্ষক চাই, যারা আমাদের দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্যবারের হল বন্ধের সঙ্গে এবারের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যবার বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের ইচ্ছায় হল বন্ধ হলেও এবার মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার স্বার্থে এসএসএফের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। সুতরাং হল বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।