বেদে দলের ছদ্মবেশে মাদক পাচার করেন তারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মে ২০২১ ১৯:১২ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২০:৪১

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ এলাকা থেকে বেদের ছদ্মবেশে মাদক পাচারকালে ৭৭ হাজার  পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. সিনবাদ (২৩), মো. মিম মিয়া (২২), মো. ইমন (১৯) এবং  মো. মনির (২৮)।

র‍্যাব-২ এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উয়িংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি মো. ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানান, র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গতকাল ৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানার বসিলা মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। 

আজ বুধবার বিকেলে কাওরান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, মূলত ভাসমান বেদে দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা মাদক পাচার করে থাকে। এসময়ে তারা সঙ্গে থাকা বহনযোগ্য রান্না করার টিনের চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে।  এরপর  রান্না করার চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে মোট ৭৭  হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং বিভিন্ন ধরনের ইমিটেশন অলংকার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে নিয়মিত কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্র পথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসত। মাদক পরিবহনের জন্য টিনের তৈরি সহজে বহনযোগ্য রান্না করার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিত। তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করত না।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আরও জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজি বাইক/সিএনজি/টেম্পু ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসতো। সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর-চৌমুহনী-সোনাইমুরী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসতো। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার প্রবেশ করত। এতে করে তাদের ৪/৫ দিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত বলে জানায়। এই দীর্ঘ সময় তারা বেদে’দের মতোই জীবন-যাপন করত এবং সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারী দ্রব্য যেমন-চুড়ি, কড়ি, চুল বাধার ফিতা, শিশুদের কোমড়ে বাধার ঘণ্টা, চেইন, সেইফটি পিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করত।

মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের কৌশলের মুখামুখি ইতিপূর্বে কখনও হয়নি এবং তারা যে রুটটি ব্যবহার করছে তা একেবারে নতুন বলা চলে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।