রক্তের গ্রুপ ‘এবি’ ও ‘বি’ হলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

আমাদের সময় ডেস্ক
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:২৮

ভারতের দ্য কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছে, ‘এবি’ এবং ‘বি’ রক্তের গ্রুপ যাদের, তাদের অন্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে যেসব মানুষের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে কম। যদি তারা আক্রান্তও হন, তাহলে উপসর্গহীন অথবা মৃদু উপসর্গ যুক্ত থাকবে।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, ভারতজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে দেশটিতে এই জরিপ করেছে সিএসআইআর। ১০ হাজারের বেশি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে সেই নমুনা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ১৪০ জন চিকিৎসক। তার পরেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই রক্তের গ্রুপ ‘এবি’। তারপরে রয়েছেন ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষরা। ‘ও’ রক্তের গ্রুপ যুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

গবেষণায় আরও দাবি করা হয়, যারা নিরামিষ খান তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ নিরামিষ খাবারের মধ্যে যে পুষ্টিগুণ থাকে, তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ

ক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে তোলে। এমনকি একবার আক্রান্ত হলে কোভিড মুক্ত হওয়ার পরে সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও নিরামিষ খাবারের ওপরেই জোর দিচ্ছেন তারা।

এদিকে সিঙ্গাপুরের এজেন্সি ফর সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্সের বায়ো-ইনফরমেটিক্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সেবাস্তিয়ান মুয়ারের-স্ট্রোহ স্ট্রেইট টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের যে রূপটি বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টি করেছে তা সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশিবার বিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলছেন, যখনই ভাইরাসটি নিজের প্রতিকৃতি সৃষ্টিতে বাধা পায় বা সময় কোনো রকম ভুল হয়, তখনই এটি শক্তিশালী হতে বিবর্তিত হয়। সে সময় এটি জিনগত কোডে নতুন কিছু যুক্ত করা, কিছু বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করতে পারে। এমনকি কখনো কখনো রূপান্তরিত ভাইরাসটি মূল ভাইরাসকে অতিক্রম করে যায়।

উদাহরণ হিসেবে ড. সেবাস্তিয়ান বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ছড়ানো করোনার ভারতীয় ধরনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে করোনার ভারতীয় ধরনটি দ্রুততার সঙ্গে বিস্তার শুরু করেছিল। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাসের সব নমুনায় এই রূপান্তরটি পাওয়া যায়। করোনা ভাইরাসের যে কোনো রূপান্তরই হোক না কেন, তাতে এই রূপান্তরিত ধরন পাওয়া যায়। কারণ এই ধরনটি এত বেশি পরিব্যাপক যে, একে একটি পারিবারিক নাম দেওয়া হয়েছিল এবং চিহ্নিত করা হয়েছিল জি বংশ হিসেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টেও বলা হয়েছে, এই জি বংশীয় ভাইরাস অধিক হারে সংক্রমণ ঘটায় এবং ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হয় না। এমনকি তা চিকিৎসা পদ্ধতি বা কোনো টিকার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না।