ঘরে ফিরছে কয়রা উপকূলের মানুষ

শেখ মনিরুজ্জামান কয়রা (খুলনা)
১২ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ২২:৪৪

বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘর থেকে পানি নেমে বসবাসের উপযোগী হতে শুরু করেছে কয়রা উপকূলের বাড়িঘর। এর ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আপন ঠিকানায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। যদিও কিছু কিছু গ্রামীণ রাস্তাঘাটে এখনো পানি রয়ে গেছে। ১৭ দিন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের পর সেই পানি মাড়িয়ে বাড়িঘরে ফিরছেন তারা। তাদেরই একজন উপজেলার মেঘারআইট গ্রামের শাহানারা খাতুন।

গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে শাহানারা বলেন, আর পারি না। অনেক কষ্ট করেছি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছি। এখনো রাস্তাঘাট পানিতে তলানো। বাড়ির উঠানে পানি। তার পরও আশ্রয়কেন্দ্রে আর থাকতে চাই না। সেখানে থাকার পরিবেশ নাই।

আশ্রয়কেন্দ্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে এই নারী বলেন, চৌকির ওপরে চুলা রেখে রান্না করে খেয়েছি। সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল খুবই কম। সেখানে ছিল না সুপেয় পানির ব্যবস্থা। চাউল জোগাড় হলেও সুপেয় পানি ও জ্বালানির অভাবে সময়মতো রান্না করতে পারিনি। পানির অভাবে গোসল করতে না পেরে রাতে ঘুমাতে পারিনি। লোনা পানিতে পশু-পাখি ও মাছ মরে পানি দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের মধ্যে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। আমারও পেটের পীড়া দেখা দিয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্মী এসে ওষুধ দিলে আমি সুস্থ হয়ে উঠি। শাহানারা আরও বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে না। ঘরবাড়ি জেগে গেছে। তাই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি।

জানা গেছে, গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কয়রা উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৪ ইউনিয়নের ৫০ গ্রাম লবণ-পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতি হয় ঘরবাড়ি, গাছপালা, পুকুর ও ঘেরের মাছ, রাস্তাঘাট ও ক্ষেতের ফসলের।

মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্যাহ আল মামুন লাভলু বলেন, বাঁধ আটকানোর ফলে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন মানুষের দরকার সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, সরকারিভাবে যে ত্রাণ, শিশুখাদ্য এবং গোখাদ্য পেয়েছি তা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। অবশিষ্ট পানি নেমে গেলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সবাই বাড়িতে ফিরতে পারবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, দক্ষিণ বেদকাশী ও উত্তর বেকাশী ইউনিয়নের ১২ জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫০টি গ্রাম লবণ-পানিতে তলিয়ে যায়; যা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ও বেড়িবাঁধের ওপর বসবাসরত সবাই নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে।