advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মা দূরারোগ্যে আক্রান্ত জমি লিখে তাড়িয়ে দিলেন ছেলেরা

শাহ মো. রেদওয়ান,সুন্দরগঞ্জ
২১ এপ্রিল ২০১৯ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ১০:০২ এএম
advertisement

স্ত্রী, ছয় ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে পৃথিবী ছাড়েন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ঝিনিয়া গ্রামের সাহেব উদ্দিন। তার রেখে যাওয়া অর্থসম্পদে স্বাচ্ছন্দ্যেই দিন পাড়ি দিয়ে আসছিলেন ছেলেমেয়েরা। একে একে তাদের বিয়েও দেওয়া হয়। এর মধ্যে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা কাছিরন বেওয়া।

চিকিৎসকরা জানান, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। আর তাতেই বেরিয়ে আসে ছেলেদের আসল রূপ। অর্থ সংকটের অজুহাতে মাকে তারা বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখেন। একসময় মুমূর্ষু মায়ের জমি লিখে নিয়ে বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দেন এই পাষণ্ডরা। জানা গেছে, পাঁচ ছেলেই অপারগতা জানালে কাছিরন বেওয়ার চিকিৎসায় তার মেয়েরা এগিয়ে আসেন। এ সুযোগে মায়ের চিকিৎসার কথা বলে ১৩ শতক জমি বিক্রি করে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বৃদ্ধার ছেলেরা।

এ ঘটনায় কাছিরনের মেয়ে রশিদা বেগম থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ছেলে কলিম উদ্দিনকে আটক করে। মায়ের চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পায়। কিন্তু কলিমসহ পাঁচভাই মিলে উল্টো ষড়যন্ত্র আঁটেন। টাকার বিনিময়ে জমি নিবন্ধনকে বাড়িতে এনে ৭২ শতক জমি ৩৫৮৯ নম্বর দলিলমূলে তারা মায়ের কাছ থেকে দান হেবা করে নেন। পরে সুকৌশলে বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দেন। উপায়ন্তর না পেয়ে মৃত্যু পথযাত্রী কাছিরন বেওয়া আশ্রয় নেন মেয়ে রশিদার বাড়িতে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. স্বদেশ বর্মণ জানান, কাছিরন বেওয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছেলে সাখাওয়াত ও কলিম বলেন, ‘আমাদের মায়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে। তাই আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। এ রোগের চিকিৎসা করিয়েই কী লাভ!’ তবে রশিদা বলেন, ‘আমার মা যতক্ষণ বেঁচে থাকবে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাব।’

এদিকে জমি উদ্ধার ও ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ৯ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন কাছিরন বেওয়া। পরে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম অভিযুক্ত ছেলেদের অনতিবিলম্বে মায়ের চিকিৎসাসহ জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ১২ দিন অতিবাহিত হলেও তাতে কর্ণপাত করেননি বৃদ্ধার ছেলেরা। ফলে অর্থাভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কাছিরন বেওয়া।

advertisement
advertisement