advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চলছে বিষোদ্গারের রাজনীতি

শাহিদুল ইসলাম সবুজ জয়পুরহাট
১৮ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৫৬
advertisement

২০১৩-১৪ সালের সহিংস অবরোধ-তা-বের পর জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত-শিবির কিংবা অন্য কোনো দলের রাজনৈতিক কোনো হানাহানি ঘটেনি। তবে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা নিজেদের কোন্দল ঠিকই জিইয়ে রেখেছেন। দলীয় কর্মী হত্যা থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ ও বিষোদ্গারÑ সব কিছুই চলছে। জেলা আওয়ামী লীগে আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় প্রভাবশালী গ্রুপ।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সাংসদ হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির সঙ্গে জেলা সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু ও সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম সোলায়মান আলীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটছে মাঠের রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় প্রতিটি কর্মসূচি এখন জেলায় পৃথকভাবে পালন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরার চেয়ে প্রতিপক্ষের বিষোদ্গারই হয় বেশি। স্বপন সমর্থক নেতাদের অভিযোগ, দুদু ও সোলায়মান কেন্দ্রে স্বপনের বিরুদ্ধে নালিশ করেছিলেন, যাতে তিনি তৃতীয়বার সাংগঠনিক সম্পাদক না হন।

স্থানীয়দের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের এই দ্বিধাবিভক্তি। কালাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর গত ১৭ মার্চ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হাবিব তালুকদার লজিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মোসলেমগঞ্জ বাজারের এই আফতাব ও রতন নামে দুই কর্মী নিহত হন। এর জের ধরেই পরে গত ৩০ আগস্ট রাতে কালাই উপজেলার কুসুম সাড়া গ্রামে সামছুল নামে দলীয় এক কর্মী নিহত হয়। খুনের পৃথক ওই ৩টি মামলায় আসামি হয়ে প্রায় তিন মাস জেল খাটতে হয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ৪৭ নেতাকর্মীকে।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাচনে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম আকন্দকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এর ১২ ঘণ্টা পর প্রার্থী পরিবর্তন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলীর নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে আবদুস সালাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। তবে মোকছেদ আলী মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসরের বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, অবসর চৌধুরীর সাজানো অভিযোগেই সালাম সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগে ‘স্বপন গ্রুপের’ মধ্যেই এখন দুই গ্রুপ হয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী উদীয়মান মোস্তাকিম ম-ল জয়ী হলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবিদার আবদুল মজিদ মোল্লা ও তাইফুল ইসলাম তালুকদারের কর্মী-সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে আছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখর মজুমদার জানান, সাংসদ স্বপন নিজের আসনসহ জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলে একক রাজত্ব কায়েম করছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী বলেন, কোন্দলের কারণে কালাই উপজেলায় দলের তিন কর্মী খুন হয়েছে। বিবদমান দুই পক্ষই স্বপনের সমর্থক।

অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু এমপি বলেন, আমাদের মস্তান, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদককারবারি কিংবা সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক একসঙ্গে দলটাকে এগিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় এক নেতা দলে বিচ্ছৃঙ্খলা তৈরি করছে।

এ বিষয়ে সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, আমি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে। বিভাজন আছে এটি সত্য। তবে রাতারাতি এর সমাধান চাইলে পাওয়া যাবে না। আমরা এ দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করছি। কিন্তু দলের মধ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ আছে, যাদের কর্মকা- দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

advertisement