advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তিতাসে সিবিএ আতঙ্ক

তদন্ত রিপোর্ট বিপক্ষে যাওয়ায় মহাব্যবস্থাপককে মারধর

লুৎফর রহমান কাকন
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৪২
advertisement

তিতাসের নবনির্বাচিত সিবিএ নেতাদের নানা নেতিবাচক কর্মকা-ের কারণে অল্পসময়ের মধ্যেই কর্মকর্তাদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। সিবিএ নেতাদের কথামতো বদলি, বাসা বরাদ্দÑ এমনকি অপরাধীদের পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট না দিলে অফিসারদের অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। এমন ঘটনায় সম্প্রতি মারধরের শিকার হন এক মহাব্যবস্থাপক।

সূত্র জানায়, তিতাসের কর্মকর্তারা এখন সিবিএ নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ জোনের এক সিবিএ নেতা সেখানকার এক কর্মকর্তার মুখের ওপর ফাইল ছুড়ে মারেন। প্রতিবাদ করলে তাকে আরও অপদস্থ হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিতাসের এক মহাব্যবস্থাপককে (জেনারেল সার্ভিসেস) প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত রিপোর্ট এমডি বরাবর জমা দিলে সিবিএ নেতারা ক্ষেপে গিয়ে মহাব্যবস্থাপককে মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পরে পুলিশ তদন্তে এসে তিতাসের ব্যববস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মোস্তফা কামালের সঙ্গে কথা বলে।

ময়মনসিংহ জোনের সিবিএ নেতা জাকির হোসেন একটি ফাইলের বিষয়ে তদবির করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মমিনুলের কাছে। কথামতো কাজ না করায় মমিনুলের মুখের ওপর ফাইল ছুড়ে মারেন জাকির। পরে মমিনুল প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ জোনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মো. মসিহুর রহমান সিবিএ নেতা জাকিরকে শোকজ করেন। জাকির ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে শোকজের জবাব দিলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ময়মনসিংহের ঘটনার বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মসিহুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বরত এক ডিজিএম ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছেন। তবু আমি ভবিষ্যতে যেন এ রকম ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জাকিরকে শোকজ করেছি।

তিতাসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রবিবার বেলা ৩টার দিকে সিবিএ সভাপতি কাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আয়াজ উদ্দিন, সহসভাপতি কামাল হোসেন, লায়ন ফারুক, রতন বসুসহ বেশ কয়েকজন (মহাব্যবস্থাপক জেনারেল সার্ভিসেস) মমিনুল ইসলাম খানের কক্ষে যান। ডেমরা জোনের এক সিবিএ নেতার মাতাল হয়ে সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের গালাগাল এবং সিসি ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত রিপোর্ট সিবিএ নেতার পক্ষে দিতে বলেন। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের ঘটনায় কেন সেখানকার সিবিএ নেতা জাকিরের বিপক্ষে দিলেন, সে বিষয়ে জানতে চান। পরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মমিনুল ইসলামের টেবিলে থাকা একটি স্যামসাং ট্যাব নিয়ে চলে আসেন। মমিনুল ইসলাম তার ট্যাব ফেরত নিতে সিবিএ নেতাদের পেছন পেছন এলে তারা তাকে ধাক্কা দেন এবং মারধর করেন।

বিষয়টি নিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিই। সিবিএ নেতাদের কাছে কারা যেন তদন্ত রিপোর্ট আগেই প্রকাশ করে দেন। তদন্ত রিপোর্ট অপরাধীদের পক্ষে না যাওয়ায় আমাকে শাসাতে আসে। ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমার ট্যাব নিয়ে যায়। মারধর করে। এ ঘটনায় আমি জিডি করেছি। তিনি আরও বলেন, ডেমরা জোনে এক জুনিয়র কর্মচারীকে তাদের কথামতো বাসা বরাদ্দ না দেওয়ায় তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

বিষয়টি নিয়ে সিবিএ সভাপতি কাজিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, আমরা জিএমের সঙ্গে কথা বলতে যাই। তিনি বলেন, সিবিএ করতে হলে কর্মচারীদের বিষয়ে কথা তো বলতেই হবে। তবে আমরা তার রুমে যাওয়ার পর তিনি ফোন ট্যাব দিয়ে কথা রেকর্ড করছিলেন দেখে ট্যাবটি নিয়ে এসে পরীক্ষা করি। পরে এমডির সঙ্গে কথা বলে জিএমের ট্যাবটি এমডির পিএস বিমল সাহেবের কাছে ফেরত দিয়ে আসি। তিনি বলেন, মারামারির ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বিষয়টি নিয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মোস্তফা কামাল আমাদের সময়কে বলেন, আমি শুনেছিÑ মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তবে আড়াই হাজার লোকের কোম্পানিতে ছোটখাটো অনেক ঘটনা ঘটতেই পারে। সবার আচরণ সমান হয় না। সবাই হয়তো ভদ্র আচরণ করতে পারেন না। আমি জিএমকে অফিসে এসে পাইনি। তিনি বাসায় চলে যান। তবে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকে মেরেছে এমন কথা তিনি বলেননি। তার ট্যাব নিয়ে এসেছিল সেটি ফেরত দিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, জিএম জিডি করেছেন। ভবিষ্যতের জন্য জিডি তিনি করতেই পারেন।

এদিকে তিতাসের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন করে নির্বাচিত হওয়ার পর সিবিএ নেতারা উদ্ধত আচরণ করছেন অফিসারদের সঙ্গে। যখন-তখন যে কোনো অফিসারের রুমে ঢুকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

advertisement